আঃ হান্নান আল আজাদ
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়েলের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের বিলের বিপরীতে ৫ শতাংশ কমিশন দাবি, কমিশন না দিলে বিল আটকে রাখা ও ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিলের হুমকি, মৌখিক নির্দেশে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অনৈতিক কমিশন দাবি ও হুমকি, বেআইনি আদেশে কাজ বন্ধ, বিল-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মেসার্স সাকিন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফ উদ্দীন হিরা এসব অভিযোগ এনে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়েলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তসহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে নিজ জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলির আবেদন করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে PEDP-4 প্রকল্পের আওতায় নান্দাইল উপজেলায় নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দেওল ডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দুটি কাজ পায় মেসার্স সাকিন কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তির শর্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করেই তারা কাজ পরিচালনা করে আসছিল।
তবে ঠিকাদার সাইফ উদ্দীন হিরার অভিযোগ, ৭ এপ্রিল ২০২৬ নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে গোলাম কিবরিয়া পিয়েল যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার অভিযোগ, প্রকৌশলী নিজে প্রস্তুত করা বিলের বিপরীতে ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিল আটকে রাখা এবং ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়।
শুধু কমিশন দাবিই নয়, লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই মৌখিক আদেশে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার অভিযোগও করেছেন ওই ঠিকাদার। এতে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা প্রকৌশলী নিজ জেলা ময়মনসিংহে এবং তার বাড়ির কাছাকাছি কর্মরত থাকায় প্রশাসনিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মেসার্স সাকিন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফ উদ্দীন হিরা।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেয়। উপ-সচিব জেসমিন প্রধানের স্বাক্ষরিত স্মারকে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়েলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে—অনৈতিক কমিশন দাবি ও হুমকি প্রদান, বেআইনি ও মৌখিক আদেশে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা, বিল-সংক্রান্ত অনিয়ম ও সরকারি রাজস্ব অর্থ আটকে রাখা এবং স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। নির্দেশনায় ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়েল বলেন, “এ বিষয়ে আমি আসলে কিছুই জানি না। তিনি অভিযোগ করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। আমি কোনো চিঠি বা লিখিত কোনো কিছু পাইনি। তিনি কী অভিযোগ করেছেন, আমি জানি না। তাকেই জিজ্ঞাসা করেন।”
এদিকে অভিযোগকারী ঠিকাদারের দাবি, কমিশন দাবি, বিল আটকে রাখা ও নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেছেন।
এখন তদন্তেই নির্ধারিত হবে—অভিযোগে উল্লিখিত ৫ শতাংশ কমিশন দাবির ঘটনা ঘটেছিল কি না, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে কোনো লিখিত সরকারি নির্দেশনা ছিল কি না এবং বিল আটকে রাখার পেছনে বিধিসম্মত কারণ ছিল কি না। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সম্পাদক মন্ডলী
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ইউসুফ আলী
হেড অব নিউজ ( মাল্টিমিডিয়া ) : রুবেল আহাম্মেদ নান্নু
Copyright © 2026 আমাদের পত্রিকা. All rights reserved.