ঢাকা: পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুর নাম নয়; বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, আবেগ ও সক্ষমতার এক স্মরণীয় অধ্যায়। সেই স্বপ্নকে গানের কথায়, সুরে ও কণ্ঠে ধারণ করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যাত্রায় কয়েক বছর আগেই যুক্ত হয়েছিলেন সংগীতশিল্পী আকাশ মাহমুদ। পদ্মা সেতুকে ঘিরে তাঁর গাওয়া একাধিক গান প্রকাশের পর দেশজুড়ে শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘ধুমধারাক্কা পদ্মা সেতু’ গানে তিনি কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি সুর ও সংগীতায়োজনের কাজও করেন। পরবর্তী সময়ে ‘পদ্মা সেতু হইলো’সহ আরও গান প্রকাশ করেন তিনি।
সেই পথচলা থেমে থাকেনি পদ্মা সেতুর গানেই। সময়ের সঙ্গে কণ্ঠশিল্পীর পরিচয়ের পাশাপাশি সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন আকাশ মাহমুদ। লোকগান, ফোক ও আধুনিক সংগীতের বিভিন্ন ধারায় কাজ করে তিনি নিজের সংগীতভাষা গড়ে তুলেছেন।
কণ্ঠের পাশাপাশি সুর-সংগীতায়োজনেও স্বাতন্ত্র্য
আকাশ মাহমুদের সংগীতজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি শুধু গান করেন না, গানের সুর ও সংগীতায়োজনেও সক্রিয়। বিভিন্ন শিল্পীর গানে তাঁর সুর ও সংগীতায়োজনের কাজের নজির রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘সাহস দিলে’ গানটিতে তাঁর কণ্ঠের পাশাপাশি সুর ও সংগীতায়োজনের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া শাহনাজ স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন শিল্পীর গানেও তাঁর সুর ও সংগীতায়োজনের কাজ প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে ‘বাজে মনে বিন’ গানের সুর ও সংগীতায়োজনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
‘Akash Dream Music’—নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত সংগীতচর্চা
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও আকাশ মাহমুদের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘Akash Dream Music’ ইউটিউব চ্যানেলে ফোক, রোমান্টিক ও বিভিন্ন ধরনের বাংলা গান প্রকাশিত হয়ে আসছে। ২০১৮ সালেও এই চ্যানেলে আকাশ মাহমুদের গান প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়।
পদ্মা সেতুকে ঘিরে তাঁর গানগুলোর পাশাপাশি ‘নিঝুম রাতের পরী’, ‘আমি কালো বলে’সহ বিভিন্ন গানে কণ্ঠ ও সংগীতায়োজনের কাজ করেছেন তিনি।
‘বাংলা বাউল’-এ লোকসংগীতের আবহে
টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও আকাশ মাহমুদের উপস্থিতি রয়েছে। নাগরিক টেলিভিশনের জনপ্রিয় লাইভ মিউজিক্যাল অনুষ্ঠান ‘বাংলা বাউল’-এ তাঁকে শিল্পী হিসেবে একাধিকবার দেখা গেছে। প্রথম আলোর টেলিভিশন সূচিতেও অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৬ সালের ঈদ অনুষ্ঠান নিয়েও প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘বাংলা বাউল’-এর শিল্পীদের তালিকায় আকাশ মাহমুদের নাম ছিল।
লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে আধুনিক সংগীতায়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপনের প্রবণতা তাঁর কাজের অন্যতম দিক। এ কারণেই ফোক ও বাউলভিত্তিক গানের শ্রোতাদের কাছে তাঁর কাজ আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
গুরু-শিষ্যের সম্পর্কেও সংগীতের ধারাবাহিকতা
আকাশ মাহমুদের সংগীতজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় তাঁর গুরু-শিষ্য সম্পর্ক। বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে তাঁকে সংগীত পরিচালক ও গায়ক শওকত আলী ইমনের শিষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগীতের দীর্ঘ পথচলায় একজন প্রতিষ্ঠিত সংগীতজ্ঞের কাছ থেকে শেখা এবং পরবর্তী সময়ে নিজস্ব সংগীতভাষা তৈরির এই ধারাবাহিকতা আকাশ মাহমুদের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের সঙ্গে ফোকের সেতুবন্ধন
বর্তমান সময়ে বাংলা গানের শ্রোতাদের একটি বড় অংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। সেই বাস্তবতায় লোকগানের আবহকে আধুনিক শব্দ ও সংগীতায়োজনের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন আকাশ মাহমুদ।
নিজের কণ্ঠের পাশাপাশি অন্য শিল্পীদের জন্য সুর ও সংগীতায়োজনের কাজও করে যাচ্ছেন তিনি। ‘প্রেমিক স্বৈরাচার’সহ বিভিন্ন নতুন গানে তাঁর কণ্ঠ ও সংগীতায়োজনের উপস্থিতি নিয়ে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সামনে আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রত্যয়
পদ্মা সেতুকে ঘিরে গান দিয়ে যে পথচলার পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের পরিসর বিস্তৃত করেছেন আকাশ মাহমুদ। চলচ্চিত্রের গানেও তাঁর সংগীত পরিচালনার কাজের তথ্য রয়েছে; বাংলাদেশি মুভি ডেটাবেজে ‘জীবন পাখি’, ‘প্রহেলিকা’, ‘মায়া—দ্য লাভ’ ও ‘আতরবিবিলেন’-এর মতো চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাঁর সংগীত পরিচালনার সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলা সংগীতের পরিবর্তনশীল সময়ে নিজের জায়গা ধরে রাখতে নিয়মিত নতুন গান, সুর ও সংগীতায়োজন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এই শিল্পী। পদ্মা সেতুর গান থেকে শুরু করে ফোক, আধুনিক গান, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর সংগীতচর্চার বিস্তারই বলে দেয়, আকাশ মাহমুদের পথচলা এখন আর কেবল একজন কণ্ঠশিল্পীর পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি নিজেকে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক—তিন পরিচয়েই প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছেন।