দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটিতে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এর ফলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসও পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসানকে তেহরান ও ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা রাজনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইরাকে দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
২০১১ সালের শেষ দিকে প্রথম দফায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলেও, ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর আবারও ইরাকে ফিরে আসে মার্কিন বাহিনী। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসবিরোধী লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে তারা।
দুই দশকের এই সামরিক অভিযানে বিপুল প্রাণহানিও হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট অভিযানে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সাধারণ ইরাকিদের অনেকের কাছে স্বস্তির হলেও, দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাওয়া ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী নতুন পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় ইরাকে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সম্পাদক মন্ডলী
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ইউসুফ আলী
হেড অব নিউজ ( মাল্টিমিডিয়া ) : রুবেল আহাম্মেদ নান্নু
Copyright © 2026 আমাদের পত্রিকা. All rights reserved.