বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা :
একটি ভ্যান কেবল যাতায়াতের বাহন নয়, কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন, স্বপ্ন আর জীবিকার প্রতীক। সেই সম্বলটুকু চুরি হয়ে গেলে একটি অসহায় পরিবারের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে যে বাবার কাঁধে প্রতিবন্ধী সন্তানের ভরণপোষণের দায়, তাঁর কাছে জীবিকার একমাত্র বাহন হারানো মানে নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রামে পিছিয়ে পড়া।
এমনই এক অসহায় বাবা আলমডাঙ্গার বেলগাছি গ্রামের আসাদুল এর পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার। চুরি হয়ে যাওয়া তাঁর জীবিকার একমাত্র সম্বল পাখি ভ্যানের পরিবর্তে নতুন একটি ভ্যান দিয়ে পরিবারটির মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নতুন ভ্যানটি পেয়ে অসহায় বাবার জীবিকা নির্বাহের পথ আবারও সচল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু একটি ভ্যান প্রতিস্থাপনের ঘটনা নয়; বরং বিপদের সময় একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দৃষ্টান্ত।
সমাজে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যাদের প্রতিদিনের আয় বন্ধ হয়ে গেলে পুরো পরিবারের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ অসচ্ছল পরিবারের জন্য জীবিকার একটি স্থায়ী অবলম্বন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের দুর্দশা উপলব্ধি করা এবং স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি করা সমাজের সবারই নৈতিক দায়িত্ব।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তারের এই উদ্যোগ মানবিক প্রশাসনের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত হলে বিপদগ্রস্ত অনেক মানুষ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবেন।
একটি পরিবারের জীবিকার সম্বল ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ফিরে আসুক বেঁচে থাকার আশা, প্রতিবন্ধী সন্তানের মুখে ফুটুক হাসি। দুঃসময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
সম্পাদক মন্ডলী
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ইউসুফ আলী
হেড অব নিউজ ( মাল্টিমিডিয়া ) : রুবেল আহাম্মেদ নান্নু
Copyright © 2026 আমাদের পত্রিকা. All rights reserved.