রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ছয়টি সাধারণ বাস রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘এক রুট এক কোম্পানি’ ব্যবস্থা। নতুন এই উদ্যোগে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের পরিবর্তে একটি কোম্পানির অধীনে সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনা করা হবে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি সাধারণ রুটে এই ব্যবস্থা চালু হবে। পাশাপাশি তিনটি সার্কুলার বাস রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সার্কুলার রুটে বাস চলাচল শুরু হতে আরও দুই মাস সময় লাগতে পারে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে ২৫৩টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। মিরপুর থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে চলবে ১৩৩টি বাস। ঘাটারচর থেকে ডেমরা রুটে থাকবে ৭০টি বাস। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে চলবে ১৫০টি বাস। ঘাটারচর থেকে ধউর রুটে ১৯০টি বাস পরিচালিত হবে। আর টঙ্গী থেকে ঢাকেশ্বরী রুটে চলবে ২০টি বাস।
সার্কুলার রুটের মধ্যে ফার্মগেট থেকে পলাশী এবং মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পলাশী রুটে ২০টি করে বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কদম চত্বর থেকে পঞ্চবটি রুটেও ২০টি বাস পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য একই সড়কে বাসের মধ্যে যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার প্রবণতা কমানো। এ জন্য বাসস্টপেজ নির্ধারণ, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানির বাস চলাচল নিশ্চিত করা গেলে অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমবে। তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা করলেই যানজটের সমাধান হবে না। নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানো, অন্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং বাস চলাচলে সিগন্যাল ব্যবস্থার সমন্বয় জরুরি।
আগামী ১ নভেম্বর ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে ঢাকার গণপরিবহনে নতুন এই ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ শুরু হচ্ছে। তবে যাত্রীসেবা কতটা উন্নত হয় এবং যানজট কমাতে উদ্যোগটি কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।
সম্পাদক মন্ডলী
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ইউসুফ আলী
হেড অব নিউজ ( মাল্টিমিডিয়া ) : রুবেল আহাম্মেদ নান্নু
Copyright © 2026 আমাদের পত্রিকা. All rights reserved.