কুষ্টিয়ায় জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করবেন।
মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সাংগঠনিক নির্দেশনার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীমের দাবি, আন্দোলন দমনসংক্রান্ত টেলিফোনে কথোপকথনের তথ্যপ্রমাণ, বিভিন্ন দালিলিক নথি ও মৌখিক সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটর।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমনে দলীয় অবস্থানের প্রতি সমর্থন, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এবং ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন যেকোনোভাবে দমন করার নির্দেশনা রয়েছে তাদের নেতা হানিফের। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে ওই বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। এর জবাবে ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এর আগে দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হলেও পরে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ মামলাটির রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। এই রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও সাধারণ মানুষ।
সম্পাদক মন্ডলী
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ইউসুফ আলী
হেড অব নিউজ ( মাল্টিমিডিয়া ) : রুবেল আহাম্মেদ নান্নু
Copyright © 2026 আমাদের পত্রিকা. All rights reserved.