মোহাম্মদ মুজাহিদ:
সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি চাঞ্চল্যকর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এলাকার চিহ্নিত প্রভাবশালী ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বুশরা হাসপাতাল ভাঙচুর, ৫০ লাখ টাকার চেক ও মানি রসিদ জিম্মি করে কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনেছেন ‘বুশরা গ্রুপ লিঃ’-এর প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুল্যাহ আল মামুন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিবাদী রফিকুল ইসলাম (৪৮), পিতা- মৃত আব্দুস সাত্তার, সাং- আলিপুর (দিঘিরপাড়), দীর্ঘ ১২/১৩ বছর ধরে বুশরা গ্রুপে ব্যবসায়িক লেনদেন করে আসছেন। পূর্বের সমস্ত ডিপোজিট ক্লোজ করে তিনি গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে এম.পি.ডি.আর (মাসিক মুনাফাভিত্তিক আমানত) প্রকল্পের আওতায় তার পুত্রের নামে হিসাব নং-১০৪১৯০০৭৫৩-এ ৫০ লাখ টাকা জমা রাখেন।
পরবর্তীতে গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৫১৭৮ নম্বর সাফ-কোবলা দলিলের মাধ্যমে ৩৫.৭২ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। জমি রেজিস্ট্রির পূর্বে বায়না ও আর্থিক লেনদেনের অংশ হিসেবে জামিন বা গ্রান্টার হিসেবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর যমুনা ব্যাংক লিঃ সাতক্ষীরা শাখার হিসাবের (নং-১১৫-০৩২০০০১৩) একটি চেক (পাতা নং- JCA NOB5155364) দুই জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে প্রদান করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর কোম্পানির ডিপোজিটের কাগজ ও চেকের পাতা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও রফিকুল ইসলাম তা ফেরত না দিয়ে উল্টো ১ কোটি টাকা দাবি করে বিভিন্ন মাধ্যমে অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কোনো আর্থিক লেনদেন বা পাওনা না থাকলেও তিনি এই হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বিবাদী রফিকুল ইসলাম তার ভাড়া করা গুন্ডাবাহিনী নিয়ে বুশরা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে (হাসপাতাল) চড়াও হন। তারা রোগীদের কেবিন ভাঙচুর করেন এবং ব্যবসায়ী আব্দুল্যাহ আল মামুনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চরম অপমান-অপদস্থ করেন। এ সময় তাকে খুন-জখম, প্রতিষ্ঠান পুনরায় গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, কোম্পানির পাওনাদারের টাকার পরিবর্তে কোম্পানির নামে জমি সাব-রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সমন্বয়ের প্রাক্কালে গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখেও বিবাদী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে অবস্থান নেন। তারা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সরকারি রাজস্ব প্রদানে ও রেজিস্ট্রি কার্যক্রমে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় ফরহা আল মাসুদ ও মোহা. ইয়াছিন আলীসহ স্থানীয় অনেকেই এই ত্রাসের রাজত্ব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন। চেক ও মূল্যবান মানি রসিদ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে এবং জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের প্রধান রফিকুল ইসলাম এবং তার গুন্ডাবাহিনীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। শুনেছি, রফিকুল ইসলাম বুশরা গ্রুপের কাছে টাকা পাবে। তাছাড়া টাকা পেলে তো হুমকি দিবে।
সম্পাদক মন্ডলী
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ ইউসুফ আলী
হেড অব নিউজ ( মাল্টিমিডিয়া ) : রুবেল আহাম্মেদ নান্নু
Copyright © 2026 আমাদের পত্রিকা. All rights reserved.