শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
এতিম ৫ কন্যার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক জন্মগত ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের পাশে সরকার : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী পলাতকদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোন সুযোগ নেই : পানিসম্পদ মন্ত্রী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র শান্তি : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রযুক্তি ও সেবা পৌঁছে দিতে হবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে গর্ভেশ্বরী শ্মশান কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের আলমডাঙ্গায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ পিচ ট্যাপেন্টাডলসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ২ দর্শনায় পাখিভ্যানে মাদক পাচারের চেষ্টা, ৬৮ বোতল এসকাপ সিরাপ উদ্ধার
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
বাজারে আসছে ‘বারি-২০’ আম
/ ৭১ বার
প্রকাশিত : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

নিউজ ডেস্ক:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে গবেষকদের উদ্ভাবিত নতুন জাত ‘বারি আম-২০’। এই জাতের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এটি প্রচলিত আমের মৌসুমের তুলনায় অনেক দেরিতে ফলন দেয়। মৌসুমের একেবারে শেষ দিকে, অক্টোবর মাসে ‘বারি আম-২০’ বাজারে আসার উপযোগী হয়। ফলে যখন অন্যান্য জাতের আমের সরবরাহ অনেকটাই কমে যায়, তখনো বাজারে পাওয়া যাবে এই নতুন জাতের আম।

সাধারণত মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে আমের সরবরাহ কম থাকায় ভালো মানের আমের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে ‘বারি আম-২০’ ওই সময়ে বাজারজাত করা গেলে চাষিরা প্রচলিত মৌসুমের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

শুধু ফলনের সময়ই নয়, ‘বারি-২০’ আমের রয়েছে আরও একটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃত ল্যাংড়া আমের ঘ্রাণ-স্বাদের সাদৃশ্য রয়েছে এই নতুন জাতের আমে। ফলে ল্যাংড়া আমের পরিচিত ঘ্রাণের সঙ্গে নতুন জাতের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় এই আমকে ভোক্তাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দুলর্ভপুর ইউনিয়নের আট রশিয়া গ্রামের আমচাষি আব্দুল আওয়াল গত ২৫ বছর ধরে আম চাষের সঙ্গে জড়িত। একসময় আম চাষ ও ব্যবসা করে ভালো লাভবান হলেও গত কয়েক বছর ধরে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।

আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘খিরসাপাত, ল্যাংড়াসহ অন্তত ১২ জাতের আম চাষ করতাম। কিন্তু প্রায় সব জাতের আম একই সময়ে বাজারে চলে আসে। এতে বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। আমরা প্রত্যাশিত দাম পাই না। অনেক সময় উৎপাদন খরচও ওঠে না।’

তিনি আরও বলেন, “তবে ‘বারি-২০’ আম যদি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে, তাহলে এটি আমাদের জন্য ভালো একটি সুযোগ হতে পারে। শুনেছি এই আম অক্টোবর মাসে বাজারে আসবে। ওই সময়ে কাটিমন ছাড়া সাধারণত তেমন কোনো আম বাজারে থাকে না। ফলে তখন ‘বারি আম-২০’ বাজারে এলে চাষিরা ভালো দাম পেতে পারেন।”

জেলার সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলার কানসাট বাজার এলাকার আমচাষি সুজা মিয়া জন্মের পর থেকেই আম চাষের সঙ্গে জড়িত। তবে সময়ের সঙ্গে আম চাষের প্রতি তার সেই আগ্রহ আর নেই। উৎপাদন খরচের তুলনায় আমের দাম কম হওয়ায় হতাশ এই চাষি।

তিনি বলেন, ‘আগের মতো এখন আর আম চাষে মন বসে না। এমনকি আমের বাগানে যেতেও ভালো লাগে না। কারণ আমের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচই ওঠে না। বছরের পর বছর শুধু লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে মৌসুমি আম চাষেই আমাদের লোকসান বেশি হচ্ছে।’

সুজা মিয়া আরও বলেন, ‘এ কারণে এখন কাটিমন আম চাষের দিকে ঝুঁকেছি। কারণ কাটিমন আম সারা বছর উৎপাদন করা যায়। বাজারে যখন মৌসুমি আম থাকে না, তখনো কাটিমন বিক্রি করে আয় করা সম্ভব।’

‘বারি-২০’ আম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এই আম। যদি এই আম ঠিকমতো বাজারে আসে এবং ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের মতো চাষিদের জন্য এটি উপকারে আসবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব জেলার আমচাষিদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আম চাষ ও আম নিয়ে প্রায়োগিক গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত তিনি। আহসান হাবিব বলেন, ‘আমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রধান কারণ হলো একই সময়ে মৌসুমি প্রায় সব জাতের আম বাজারে চলে আসে। ফলে বাজারে সরবরাহ অনেক বেড়ে যায়। অন্যদিকে বিদেশে আমাদের আম তেমন একটা রপ্তানি হচ্ছে না। পাশাপাশি দেশের ভোক্তার সংখ্যাও সেই তুলনায় বাড়ছে না। ফলে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় বাজারে আমের দরপতন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে কাটিমন আমের দাম তুলনামূলক ভালো। এর অন্যতম কারণ, কাটিমন মৌসুমি আমের শেষের দিকে বাজারে আসে। তখন বাজারে অন্য জাতের আমের সরবরাহ অনেকটাই কমে যায়। ফলে এই আমের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকে।’

‘বারি আম-২০’ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আহসান হাবিব বলেন, যদি ‘বারি আম-২০’ বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে এবং অক্টোবর মাসে এর উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তাহলে এটি আমচাষিদের জন্য ভালো একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন শামীম বলেন, ‘দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে খিরসাপাত (হিমসাগর) ও ল্যাংড়া আমের। এর অন্যতম কারণ এসব জাতের আমের ঘ্রাণ ও স্বাদ। সুস্বাদু হওয়ায় দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এসব আমের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এসব আম রপ্তানি করা হয়।’

তিনি বলেন, “গবেষকদের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, ‘বারি আম-২০’ অক্টোবর মাসে উৎপাদন হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আমে ল্যাংড়া আমের মতো ঘ্রাণ ও স্বাদ পাওয়া যাবে। যদি সত্যিই অক্টোবর মাসে এই জাতের আম উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং স্বাদ ও ঘ্রাণ ভালো থাকে, তাহলে এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।”

ইসমাইল হোসেন শামীম আরও বলেন, “মৌসুমের শেষের দিকে যখন বাজারে অন্য জাতের আম প্রায় থাকে না, তখন ‘বারি আম-২০’ বাজারে এলে চাষিরা যেমন ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন, তেমনি ভোক্তারাও মৌসুমের বাইরে সুস্বাদু আম খাওয়ার সুযোগ পাবেন। আমার মনে হয়, এই জাতটি সফলভাবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে আমের রাজ্যে এটি একটি ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আব্দুল হালিম বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের আমের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘বারি আম-৪’। স্বাদ, গুণগত মান, উৎপাদন ক্ষমতা এবং বাজারে এর চাহিদার কারণে জাতটি এরইমধ্যে চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সময় বাড়ানো গেলে চাষিরা আরও লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ভোক্তারাও বছরের বিভিন্ন সময়ে মানসম্মত আম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরেই আমচাষিদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচের তুলনায় তারা আমের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। চাষিদের এই সমস্যার সমাধান করাই এখন গবেষকদের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘চাষিরা যাতে আম চাষ করে লাভবান হতে পারেন, আমরা সেটি নিয়েই কাজ করছি। এরইমধ্যে বারি আম-৪-সহ আমাদের উদ্ভাবিত বেশ কয়েকটি জাত বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু মৌসুমি আম উৎপাদন নয়, বরং বছরের বিভিন্ন সময়ে যাতে বাজারে আমের সরবরাহ থাকে, সে ধরনের জাত উদ্ভাবন করা।’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ