পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া বানানোর ভয়ংকর অপকর্মের অভিযোগ

জিএম জয়, রংপুর ব্যুরো প্রধান।
সুস্থ সবল কর্মক্ষম পুরুষের লিঙ্গ কেটে তাদের হিজড়া বানিয়ে, তাদের দিয়ে চাঁদাবাজী আর আধিপত্য বিস্তারের ঘৃণ্য অপকর্ম সম্পাদনের অভিযোগ পাওয়া গেছে গাইবান্ধার গুরুমাখ্যাত হিজড়া মৌ-এর বিরুদ্ধে! চাঁদার কমিশন লাখ লখ টাকা দিয়েও মৌ সিন্ডিকেটের ফাঁদ থেকে বের হতে পারছে না খোদ হিজড়ারাই! তাকে হিজড়াবৃত্তির কমিশন দিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন অনেকে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, আতিকুর রহমান আতিক ওরফ মৌ হিজড়া আনুমানিক ২৫ বছর আগে শরিয়তপুর থেকে গাইবান্ধায় এসে অবস্থান শুরু করেন! নিজের লিঙ্গ কেটে হিজড়া হওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু পুরুষের লিঙ্গ কেটে দিয়ে হিজড়া বানিয়ে শুরু করেন চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্মের ভয়ংকর সিন্ডিকেট। একসময় যার থাকার জন্য একটা ইট ছিলো না। আজ তিনি ৫ তলা বাড়িসহ কয়েক বিঘা জমির মালিক! বসে বসে কমিশন বানিজ্যের মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানার রসুলপুর ইউনিয়নের পঞ্চাশোর্ধ মোখলেছার রহমান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অর্ধশত বছর কাটিয়ে, নিজের মেয়েকে বিয়ে দেন সাধেরহাটে। পরবর্তীতে মৌ-এর মাধ্যমে লিঙ্গ কেটে মোখলেছার থেকে মোসলেমা হিজড়া হয়ে মৌ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে, প্রথমত অভিযোগ অস্বীকার করে পরবর্তীতে পুরুষ থেকে হিজড়া হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন মোখলেছার অরফে মোসলেমা হিজড়া।
সাদুল্লাপুর থানার গড়ের মাঠের আন্জু অরফ রূপবানী! তারও লিঙ্গ কেটে হিজড়া বানায় মৌ। এই রুপবানীর কাছ থেকে গত ২০ বছর ধরে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েও ক্ষান্ত হননি মৌ। সর্বশেষ ৪ লাখ টাকা নেয়ার পরও মৌ তাকে নানাভাবে তাকে হয়রানী করছেন বলে অভিযোগ তুলছেন রূপবানী।
গড়ের মাঠের আরেক পুরুষ বাচ্চা, নাম সাগর অরফে স্বর্ণামনি। তার লিঙ্গ কেটে তাকেও হিজড়া বানানোর অপকর্মযজ্ঞ চলমান রয়েছে।
সূত্র বলছে, দেশের সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা না করে নির্বিকারে পুরুষদের হিজড়া বানিয়ে তাদের দিয়ে চাঁদাবাজীর কমিশন খেয়ে গাইবান্ধায় হিজড়াদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ঘৃণ্য খেলায় মেতেছেন মৌ হিজড়া! পুরুষ থেকে হিজড়া বানিয়ে তাদের দিয়ে নানা অপকর্মসহ চাঁদাবাজী করিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মৌ। কেউ তার বাইরে গেলেই চালান অমানবিক নির্যাতন। হিজড়াদের গ্যাংস্টার নিজেকে জাহির করেন এই মৌ।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে কমিশন খাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মৌ হিজড়া বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে নিউজ হলে কি আর হবে! হিজড়াদের মানসম্মান আছে।’ পুরুষ লিঙ্গ কেটে হিজড়া বানানোর অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে অন্য প্রসঙ্গ তুলে এড়িয়ে যান তিনি।
আইনমতে, বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালে হিজড়া সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ (Hijra) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি মূলত জন্মগত বা প্রাকৃতিকভাবে নির্ধারিত লিঙ্গ পরিচয়ের স্বীকৃতি, কৃত্রিমভাবে কাউকে এই রূপ দেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া বা আইন নয়।
দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কাউকে জোরপূর্বক শারীরিকভাবে আঘাত করা, অঙ্গহানি করা বা খাসি (castration) করার মতো কোনো কাজ করা বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী (যেমন দণ্ডবিধির ৩০৭ বা ৩২৬ ধারা অনুযায়ী গুরুতর জখম বা অঙ্গহানির অপরাধ) কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
চিকিৎসা নীতিমতে, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকের অনুমতি বা রোগীর সুনির্দিষ্ট জেন্ডার ডিসফোরিয়া (Gender Dysphoria) সংক্রান্ত চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া যেকোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক শারীরিক পরিবর্তন বা অঙ্গহানি সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয়।
উল্লেখ্য, হিজড়া সম্প্রদায় শ্যামবাজার এবং ঘুঙ্গুর নামে দুটি দলে বিভক্ত। শুধুমাত্র রংপুর বিভাগেই প্রায় দুই হাজার হিজড়া অবস্থান করছেন! নানা সংগঠন আর জেলাভিত্তিক একজন নির্ধারিত “গুরু মা” এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে হিজড়া সম্প্রদায়!
আপনার মতামত লিখুন :
Leave a Reply
এ বিভাগের আরও সংবাদ

