গোপালগঞ্জে আইফোনের জন্য বন্ধুদের হাতে কলেজ ছাত্র খুন, সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ১০৯ বার পড়া হয়েছে
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামে আইফোনের জন্য এক কলেজ ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম সিয়াম (১৭), পিতা: লিখন। হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত চার বন্ধু সিয়ামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তারা পরিকল্পিতভাবে সিয়ামের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর তারা মরদেহ হাসপাতালের পেছনের একটি পুকুরে ফেলে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে, যাতে কেউ সহজে এটি দেখতে না পারে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে সিয়াম নিখোঁজ ছিল। তাকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিষয়টি পুলিশকে জানালে তদন্ত শুরু হয়। সোমবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ হাসপাতালের পেছনের পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, হত্যার ঘটনায় জড়িতরা হলেন:
১. সাজিদ মুন্সী, পিতা: রিপন মুন্সী, গ্রাম: বাঁশবাড়ীয়া
২. পারভেজ মুন্সী, পিতা: টুটুল মুন্সী, গ্রাম: বাঁশবাড়ীয়া
৩. অভি মুন্সী, পিতা: রহমান মুন্সী, মাতা: পপি বেগম, গ্রাম: বাঁশবাড়ীয়া
৪. দিদার মুন্সী, পিতা: সাহিন মুন্সী, গ্রাম: ঝুঁটি গ্রাম
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিয়ামের ব্যবহৃত একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার পর অভিযুক্তরা মোবাইলটি বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়রা নৃশংস হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘটনাটি শুধু বাঁশবাড়ীয়া গ্রাম নয়, পুরো মুকসুদপুর উপজেলাকে স্তব্ধ করেছে। শিক্ষার্থী, পরিবার এবং এলাকার মানুষ এই হত্যাকাণ্ডকে নিন্দা জানাচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত ও শাস্তি চাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনা নিয়ে তারা ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অন্য কোনো জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।






















