চলাচলের পথে বাধা: দোয়ারাবাজারে অবরুদ্ধ ৪ পরিবার, মানবেতর জীবনযাপন
- আপডেট সময় : ১২:২৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা এলাকায় প্রায় ৩০ বছরের পুরনো একটি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে। এতে চারটি পরিবার কয়েক মাস ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
ভুক্তভোগী আমিনা বেগম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। বসতবাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য তার আপন ভাই মরহুম আলাউদ্দিনের দানকৃত একটি পারিবারিক পায়ে চলার পথ প্রায় তিন দশক ধরে ব্যবহার করে আসছেন। জীবদ্দশায় আলাউদ্দিন ওই পথ ব্যবহারের জন্য লিখিত আশ্বাসও দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালে তার মৃত্যুর পর তার ছেলে আল আমিন হঠাৎ করে পথটি বন্ধ করে দেন।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/01/নান্দাইলে-৭-বছরের-শিশু-ধর/
সরেজমিনে দেখা গেছে, পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কিংবা অসুস্থতার সময় বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের সালিশ বা অনুরোধ কোনো কিছুই তারা মানছেন না। এমনকি স্থানীয় ইউপি সদস্য সমাধানের চেষ্টা করলেও তাতে সাড়া মেলেনি।
আমিনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অসহায়। এই পথ ছাড়া আমাদের বের হওয়ার আর কোনো রাস্তা নেই। ৩০ বছর ধরে যে পথে চলছি, আজ সেটি বন্ধ করে আমাদের যেন খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে দোয়ারাবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আশা, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে জনস্বার্থে পথটি উন্মুক্ত করে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করবে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/01/যশোরের-ফেরদৌস-পরশ-নাগরিক/
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, তারা বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করেছেন, তবে ভুক্তভোগীরা তাদের রেকর্ডকৃত জমি দিয়ে গাড়ি চলাচলের রাস্তা দাবি করছেন। এ নিয়ে তাদের কোনো বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত এই সমস্যার সমাধান জরুরি, যাতে অবরুদ্ধ পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।






















