শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান
ভাংবাড়ীয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলীর দাফন সম্পন্ন, অশ্রুসিক্ত পরিবেশে গার্ড অব অনার
- আপডেট সময় : ০১:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রাম সোমবার রাতে পরিণত হয়েছিল এক শোকাবহ জনপদে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানাতে গ্রামজুড়ে নেমে আসে গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার আবহ। গার্ড অব অনার প্রদান শেষে রাত ৮টার দিকে ভাংবাড়ীয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মরহুম আহম্মদ আলী ছিলেন ভাংবাড়ীয়া গ্রামের রিকাত মন্ডলের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের ঠাকুরপুকুর সরোজ গুপ্ত ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭৭ বছর। তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, সহযোদ্ধা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় নিজ গ্রামে তাঁর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন এলাকাবাসী, সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হলে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ পান্না আক্তার, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদানের মুহূর্তে অনেকের চোখে অশ্রু ঝরতে দেখা যায়। সহযোদ্ধারা ফুলেল শ্রদ্ধায় বিদায় জানান তাঁদের প্রিয় সাথীকে—যিনি একসময় দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন।
শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় স্থানীয়দের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয়—“একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারালাম আমরা।” গ্রামের প্রবীণরা জানান, আহম্মদ আলী ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, মানবিক ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত একজন মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও দেশপ্রেমের গল্প শুনিয়ে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতেন তিনি। রাত ৮টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে ভাংবাড়ীয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের সময় শোকাহত পরিবেশে উপস্থিত মানুষের চোখে ছিল গভীর বেদনা আর শ্রদ্ধা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলীর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।





















