সংসদের সফলতা নির্ভর করবে কার্যকারিতার ওপর: মঈন খান
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খান বলেছেন, বর্তমান সংসদকে এখনই গণতন্ত্রের মাইলফলক বলা যাবে না। এর সফলতা নির্ভর করবে সংসদের কার্যকারিতা, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর। বুধবার (১৩ মে) বিকেল ৩টায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বর্তমান সংসদ একটি নতুন মাইলফলক কিনা’ শীর্ষক সিটিজেন ফোরাম, বাংলাদেশ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, সংসদের আলোচনাগুলো যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এটি ভবিষ্যতে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি নিজেকে “সাধারণ নাগরিক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সংসদ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখছেন। তার মতে, সময়ই নির্ধারণ করবে এই সংসদ সত্যিই মাইলফলক হবে কি না। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ—নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সংসদ—এর মধ্যে সংসদের প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন। কিন্তু বাস্তবে সংসদ সদস্যরা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি জানান, বহু আইন পাস হলেও সব আইন বিস্তারিতভাবে পড়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/13/স্পিডবোট-চলাচলে-নতুন-ভাড/
ড. মঈন খান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সংসদ সদস্যদের শুধু আইন প্রণয়ন নয়, জনগণের নানা সমস্যার সাথেও যুক্ত থাকতে হয়। কখনও রাত গভীরেও অসুস্থ মানুষের ফোন আসে সাহায্যের জন্য। ফলে তাদের ভূমিকা “জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ” পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, সত্য কথা বললে সরকার ও বিরোধী উভয় দিক থেকেই চাপ আসে, ফলে সংসদ সদস্যরা অনেক সময় ‘রাবার স্ট্যাম্প’-এর মতো অবস্থায় থাকেন। গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে সতর্কতা ও সহনশীলতা জরুরি। “সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হলেও সংখ্যালঘুর সম্মতির ভিত্তিতে” গণতন্ত্র পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলা ঠিক নয়, বরং এটি সফল একটি গণঅভ্যুত্থান। তিনি এটিকে ইউরোপীয় রেনেসাঁর মতো একটি জাগরণ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না।
জামায়াত ও অন্যান্য বক্তাদের মন্তব্য
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এহসান জোবায়ের বলেন, আগের সংসদগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও বর্তমান সংসদ একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তিনি সংসদ সদস্যদের বড় অংশ ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য হওয়ায় স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেন। দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, এখনই সংসদকে মাইলফলক বলা তাড়াহুড়া হবে, তবে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/13/সাবেক-মন্ত্রী-ইঞ্জিনিয়া/
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদের সফলতা নির্ভর করবে সদস্যদের মানসিকতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহিতার ওপর। তিনি এমপিদের স্থানীয় প্রশাসনে হস্তক্ষেপ ও স্বার্থসংঘাত নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত হন যে, বর্তমান সংসদের কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা সময়ের পরীক্ষায়ই নির্ধারিত হবে।

























