রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতা: সময়ের সঙ্গে বাড়ছে দায়বদ্ধতা টক বড়ই চাষে কোটিপতি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন আজ । বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’ জাতিসংঘে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ইতালির কোম্পানিকে আমন্ত্রণ স্পিকারের ‘উগ্রবাদী সংগঠন’ গড়ার পরিকল্পনা থেকে মসজিদে বৈঠক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন অনেক বড় সম্মানের বিষয় : চীনা রাষ্ট্রদূত পঞ্চগড়ে সীমান্তের ৩৩ যুবক পেল ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণের সনদ হারিয়ে যাওয়া ৫৬টি মোবাইল ফোন হস্তান্তর গাজীপুরে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা। প্রতাপনগরে হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীর দোকান পুড়িয়ে দিল দুষ্কৃতকারীরা
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতা: সময়ের সঙ্গে বাড়ছে দায়বদ্ধতা
/ ২ বার
প্রকাশিত : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ন
সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতা: সময়ের সঙ্গে বাড়ছে দায়বদ্ধতা

 

সামসু‎ উদ্দিন বাবু :কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ

সময়ের সঙ্গে সমাজ বদলায়, বদলায় মানুষের চিন্তা, চাহিদা ও তথ্য জানার ধরন। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সংবাদ এখন আর কেবল সংবাদপত্রের পাতায় কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই। মুহূর্তের মধ্যে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন সাংবাদিকতার জন্য যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, তেমনি তৈরি করেছে বড় ধরনের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো—সঠিক তথ্যের সঙ্গে ভুল তথ্যের পার্থক্য করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো একটি ছবি, ভিডিও কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে। অথচ যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশিত একটি তথ্য একজন ব্যক্তি, একটি প্রতিষ্ঠান কিংবা একটি এলাকার সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই একজন সাংবাদিকের প্রথম দায়িত্ব হলো—দ্রুততার চেয়ে সত্যকে প্রাধান্য দেওয়া।

সাংবাদিকতা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার নাম নয়। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো তথ্য, অনুসন্ধান, প্রশ্ন এবং সত্য তুলে ধরার সাহস। একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব হচ্ছে সমাজের অসংগতি তুলে ধরা, মানুষের কথা বলা এবং ক্ষমতাবানদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা। একই সঙ্গে অভিযোগের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরাও সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্বের অংশ।

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদ ও মতামতের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেন সংবাদ পরিবেশনের ওপর প্রভাব না ফেলে—এ বিষয়ে প্রত্যেক সংবাদকর্মীকে সচেতন থাকতে হবে। কারণ একজন সাংবাদিকের কলম শুধু একটি প্রতিবেদন তৈরি করে না; অনেক সময় সেই প্রতিবেদন মানুষের ধারণা, সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক বাস্তবতাকেও প্রভাবিত করে।

তবে সাংবাদিকতা মানেই ভুলের ঊর্ধ্বে থাকা নয়। একজন সাংবাদিকও মানুষ, তাঁর ভুল হতে পারে। কিন্তু ভুল হলে তা স্বীকার করা, সংশোধন করা এবং ভবিষ্যতে একই ভুল যেন না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক হওয়াই পেশাদারিত্বের পরিচয়। সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়ার অভ্যাস সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করে।

আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তির ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা নয়; এটি জনগণের আস্থা অর্জনের একটি দায়িত্বশীল পেশা। সংবাদকর্মীর পরিচয় তার পরিচয়পত্রে নয়, বরং তার কাজের মান, সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধে প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি সংবাদ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে পারে, আবার অসতর্ক সংবাদ একজন নিরপরাধ মানুষের জন্য বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে।

টিম জার্নালিস্ট’স বিশ্বাস করে—সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থ। যেখানে অনিয়ম থাকবে, সেখানে প্রশ্ন থাকবে; যেখানে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, সেখানে সাংবাদিকের কণ্ঠ থাকবে; আর যেখানে সত্য প্রকাশের প্রয়োজন হবে, সেখানে ভয় বা চাপের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা থাকতে হবে।

সমসাময়িক সময়ে সাংবাদিকতার সামনে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিযোগিতা, দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চাপ এবং তথ্যের অতিপ্রবাহ—সবকিছু মিলিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে শুধু সংবাদ সংগ্রহ করলেই হবে না; প্রয়োজন তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, নৈতিকতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—বিশ্বাসযোগ্যতা। একটি সংবাদ কত দ্রুত প্রকাশিত হলো, কত মানুষ দেখল কিংবা কত বেশি প্রতিক্রিয়া পেল—তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সংবাদটি কতটা সত্য, নির্ভুল ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট। কারণ সময়ের সঙ্গে অনেক শিরোনাম হারিয়ে যায়, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের সত্যনিষ্ঠ কাজ মানুষের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের প্রত্যয় নিয়ে—টিম জার্নালিস্ট’স এগিয়ে চলুক মানুষের পাশে, সত্যের পক্ষে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদি

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ