রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতা: সময়ের সঙ্গে বাড়ছে দায়বদ্ধতা টক বড়ই চাষে কোটিপতি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন আজ । বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’ জাতিসংঘে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ইতালির কোম্পানিকে আমন্ত্রণ স্পিকারের ‘উগ্রবাদী সংগঠন’ গড়ার পরিকল্পনা থেকে মসজিদে বৈঠক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন অনেক বড় সম্মানের বিষয় : চীনা রাষ্ট্রদূত পঞ্চগড়ে সীমান্তের ৩৩ যুবক পেল ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণের সনদ হারিয়ে যাওয়া ৫৬টি মোবাইল ফোন হস্তান্তর গাজীপুরে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা। প্রতাপনগরে হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীর দোকান পুড়িয়ে দিল দুষ্কৃতকারীরা
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
টক বড়ই চাষে কোটিপতি
/ ২ বার
প্রকাশিত : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ন

ডেক্স : টক বড়ই চাষ করে কোটিপতি হয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের সফল উদ্যোক্তা মোসলেম উদ্দিন। সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানি-ঘাটাইল সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন বড়ইয়ের বাগান। এছাড়া তার বাগানে রয়েছে লেবু, মাল্টা। প্রতি মৌসুমে বাগান থেকে প্রায় এক কোটি টাকার টক বড়ই বিক্রি করেন তিনি।
প্রায় এক যুগ ধরে দেশীয় টক বড়ই চাষ করছেন মোসলেম উদ্দিন। তার বাড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে। মোসলেমের বড়ইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে উপজেলার অনেকই বড়ই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নতুন করে বাগানও গড়ে তুলেছেন।
জানা গেছে, কৃষিকাজের সঙ্গে মোসলেম উদ্দিন জড়িত প্রায় ১৫ বছর ধরে। এছড়া তিনি লেবু, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেছেন। তবে বড়ই চাষে এসে তিনি পেয়েছেন আলাদা সাফল্য। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে গড়ে তুলেছেন এই বাগান। তবে শুরুর দিকে তার এ সাফল্য কঠিন ছিল।
২০০০ সালের দিকে মোসলেম উদ্দিন বাজার থেকে শুকনো বড়ই কিনে আচার তৈরি করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে মানুষের বাড়ি বাড়ি এবং রাস্তা রাস্তায় ফেরি করে বড়ইয়ের আচার বিক্রি করেন। সে সময় লাভও সীমিত ছিল। পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনায় লেবু চাষ করেন। এসময় ধীর ধীরে লেবুর বাগান থেকে মোসলেম ভালো ফলন পেতে থাকেন এবং বিক্রিও করেন। পরবর্তীতে ফেরির কাজ বাদ দিয়ে ২০১২ সালে বড় পরিসরে ৬ একর জায়গায় লিজ নিয়ে লেবুর বাগান করেন। সে সময় বেশ সফলতা পান মোসলেম উদ্দিন। পরে মাল্টা এবং বড়ইয়ের বাগান গড়ে তুলেন তিনি।
২০১৪ সালে টক বড়ই আবাদ করে বেশ লাভবান হন মোসলেম। এরপর থেকে তিনি টক বড়ই আবাদ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল কৃষি উদ্যেক্তা হয়েছেন।
আগস্ট মাসের শুরু থেকেই তার বাগানের আগাম টক বড়ই বাজারজাত শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বাগানে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। আর বড়ইয়ের ভরা মৌসুমে শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ থেকে ৮০ জনে। ফলে তার বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ।
মোসলেম উদ্দিন বলেন,‘প্রথমে ফেরি করে টক বড়ইয়ের আচার বিক্রি করেছিলাম। পরবর্তীতে লেবু এবং মাল্টার বাগান করি। পরে টক বড়ইয়ের আবাদ করলে সাফল্য পেতে থাকি। ৫০ একরের বাগান লিজ নিয়ে টক বরই করেছি। প্রতি মৌসুমে এতে আমার খরচ হয় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা। বিক্রি হয় প্রায় ১ কোটি টাকার মতো।’
জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ বস্তা বড়ই ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ৬০ কেজি বড়ই থাকে। বর্তমানে প্রতি কেজি আগাম টক বড়ই ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বড়ই বিক্রি করেন তিনি।
মৌসুমের ভরা সময়ে বড়ইয়ের দাম কিছুটা কমে গেলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে এক মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকার বড়ই বিক্রি করেন বলে জানান মোসলেম উদ্দিন।
মোসলেম উদ্দিনের বাগানের টক বড়ইয়ের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির কাছেও। বিশেষ করে প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ টক বড়ই কিনে থাকে। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও এ ফলের ভালো চাহিদা রয়েছে। নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি মোসলেম উদ্দিন এখন এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার নাম।
প্রায় ৫০ একর জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলা তার বড়ইয়ের বাগান এখন শুধু ফল উৎপাদনের জায়গা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য টক বড়ই। বাগানের ভেতর ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে বড়ই পাড়ছেন, কেউ ঝুঁড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন। এরপর এসব বড়ই চলে যাচ্ছে ঢাকার বড় বড় পাইকারি বাজারে।
মোসলেম উদ্দিনের বাগানের কর্মচারী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আমি ৭ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। বাগানের সব পরিচর্যাই আমি করি।
আরেক কর্মচারী মো. শাহিন বলেন, কাজের চাপ থাকলে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে হয়। আমি বাগানের পরিচর্যা করি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করতে হয়।
স্থানীয় মাছুম আহমেদ বলেন, মোসলেম উদ্দিনের সফলতা দেখে আমি প্রায় দুই বছর ধরে বড়ইয়ের চাষ করছি। বর্তমানে ১৫০ শতাংশ জমিতে বড়ইয়ের গাছ রয়েছে আমার। এবর আমার ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি ৮ থেকে ৭ লাখ টাকার লাভ হবে।
কৃষি উদ্যোক্তা মোসলেম উদ্দিন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে দাম ভালো থাকলে আশা করছি এবার ভালো বিক্রি করতে পারবো। এতে আমার ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। আমার এখানে ৩ থেকে ৪ জাতের টক বড়ই রয়েছে। বছরে দুই বার টক বড়ই চাষ করে থাকি। আগাম এবং সিজনাল সময়ে চাষ করা হয়। সন্তানদের লেখাপড়াসহ সংসারের যাবতীয় খরচ এ পেশার উপর নির্ভরশীল। কৃষি বিভাগ থেকেও আমাকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
মোসলেম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের বেকার তরুণ-তরুণীরা বড়ই চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারেন। বাংলাদেশের মাটি বড়ই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অবশ্যই এই পেশায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, দেশি জাতের টক বড়ই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম উদ্দিন সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের সহায়তা সবসময়ই চলমান রয়েছে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, হাইব্রিড কিংবা উচ্চ ফলনশীল জাতের কারণে আমাদের দেশীয় জাতেরগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। দেশীয় জাতের ফলগুলো পুষ্টি সম্মত এবং মানও ভালো। মোসলেম উদ্দিন সারা বাংলাদেশ থেকে দেশীয় জাত সংগ্রহ করে আবাদ করেছেন। টক বড়ই চাষ করে মোসলেম উদ্দিন ভালোই লাভবান হন। তার এ কাজটিকে আমারা সাধুবাদ জানাই। আমারও অনেকেই উৎসাহ দেই তার এ কাজ দেখে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ