
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাতক্ষীরা সদর থানা জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মো: সুমন রহমান।
বুধবার সাতক্ষীরার বাজার কলকাতা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত হলুদ সাংবাদিকতার প্রতীক একটি দৈনিক পত্রিকায় গত ২৭, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে মনগড়া ও কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা সুমন রহমান বলেন, ঐ দৈনিক পত্রিকায় দিনভেদে সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী শিরোনামে ‘যুবদল নেতা সুমনের ১০ পিস স্বর্ণের বার ছিনতাই’ এবং ‘যুবদল নেতার কোটি টাকার ৮টি স্বর্ণের বার ছিনতাই, চাপে পড়ে ৪টি ফেরত’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
এসব সংবাদের সাথে বাস্তবতার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। সংবাদে যেসব ছবি বা ভিডিও ফুটেজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে দৃশ্যমান ব্যক্তির সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহলের ইন্ধনে এই বানোয়াট অপপ্রচার চালানো হয়েছে। উক্ত পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিনি একজন চিহ্নিত অপসাংবাদিক, চাঁদাবাজ ও বিতর্কিত ব্যক্তি।
সাংবাদিকতার পবিত্র পেশাকে হাতিয়ার বানিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে ব্ল্যাকমেইল এবং চরিত্রহনন করে আসছেন। তার অধীনে একটি অপরাধী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তিনি দেবহাটার বিতর্কিত ভূমিহীন হত্যা মামলা ও চাঁদাবাজি মামলায় জেল খেটেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক ঘের ও জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিগত সময়ের অপকর্মের খতিয়ান তুলে ধরে সুমন রহমান আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় সাবেক এমপি রুহুল হক ও মোস্তাক আহমেদ রবির প্রভাব খাটিয়ে তিনি টেন্ডারবাজি, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব জবরদখলসহ নানা ঘৃণিত অপরাধে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি ক্লাবের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। মুনজিতপুরের এক ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা চেক প্রতারণা মামলাসহ একাধিক আইনি মামলা বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন।
সম্প্রতি চাঁদা না পেয়ে কৃষকদল নেতাসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের জেরে তিনি গণরোষের মুখে লাঞ্ছিতও হয়েছেন। তার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কথিত সাংবাদিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন সাক্ষ্য দেন। তার এই মিথ্যা সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ৭০ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছে এবং রাজপথের বহু নেতাকর্মী সাজাপ্রাপ্ত হন।
এমনকি তার মিথ্যা সাক্ষ্যের বলি হয়ে জেলে দুজন নেতাকর্মীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ সময় অপসাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে উপস্থিত বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা তাঁতি দলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন এবং সাবেক ছাত্রনেতা রাকিব ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

