
দেলোয়ার হোসাইন, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্য বেলকা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক শিক্ষকের বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ। এতে স্থানীয় এক শিক্ষকের বৃদ্ধ বাবা, দাদা, দাদী ও ফুফু ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক মোহাম্মদ আল আমিন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে মধ্য বেলকা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় চর বেলকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আল আমিনের বসতবাড়ির উঠানে তাঁর পিতা মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ (৬০) এবং ৮০ বছর বয়সী দাদা মোহাম্মদ মজিবর রহমান বসে ছিলেন। জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে একই এলাকার প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ গাজী মিঞা (৩৮), মোহাম্মদ শাওন মিঞা (৪২), মোহাম্মদ ধলু মিঞা (৪০), মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (২৩) ও মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম (২৩)-এর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযুক্তরা গালিগালাজ শুরু করলে তার প্রতিবাদ করায় ১ নম্বর আসামির হুকুমে ৩ নম্বর আসামি ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আব্দুল ওয়াহেদের মাথার মাঝখানে কোপ দেয়। এতে তাঁর মাথার হাড় কেটে রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়। এ সময় ৮০ বছরের বৃদ্ধ দাদা মজিবর রহমান বাধা দিতে গেলে ১ ও ৪ নম্বর আসামি তাঁকে ধারালো ছোরা ও দা দিয়ে মাথায় সজোরে কোপ মারেন। বৃদ্ধ ডান হাত দিয়ে কোপ ঠেকাতে গেলে তাঁর ডান হাতের তালু কেটে হাড় কেটে যায়।
তাঁদের আকুল আর্তচিৎকার শুনে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে শিক্ষকের ৭০ বছর বয়সী দাদী নুরজাহান বেগম এবং ২২ বছর বয়সী ফুফু আলেকজান খাতুনকেও কোপাতে থাকে হামলাকারীরা। ২ ও ৫ নম্বর আসামি দাদী নুরজাহানের মাথায়, পিঠে ও কনুইয়ে কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করে। অন্যদিকে ৬ নম্বর আসামি ফুফু আলেকজানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দিলে তা হাত দিয়ে ঠেকানোর সময় তাঁর দুই হাতই গুরুতর কেটে রক্তভেজা জখম হয়।
পরে স্বজনদের চিৎকার শুনে স্থানীয় আমিনুল ইসলাম, মজিবর হোসেন, আনিছা বেগম ও মিজানুর রহমানসহ আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় জখমীদের উদ্ধার করে দ্রুত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ৮০ বছর বয়সী দাদা মজিবর রহমানের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকি আহতরা বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক আল আমিন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

