
রুপক চক্রবর্তী, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত ১৫ই অক্টোবর রোজ বৃহস্পতিবার দেবী দুর্গার বোধন পূজা এবং ১৬ ই অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। এবছর আগামী ২১ শে অক্টোবর দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
শরীয়তপুর জেলার ছয়টি উপজেলায় ১০২টি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের উপস্থিতিতে বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ। প্রতিমার অপরূপ সৌন্দর্য, বর্ণিল আলোকসজ্জা আর মণ্ডপের সাজসজ্জায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ৩৩টি, নড়িয়ায় ৩৪টি, জাজিরায় ৫টি, ভেদরগঞ্জে ১৬টি, ডামুড্যায় ৬টি এবং গোসাইরহাটে ৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলায় সর্বাধিক ৩৪টি এবং জাজিরায় সর্বনিম্ন ৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে জেলার মন্দিরগুলোতে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা শোভা পাচ্ছে মণ্ডপগুলোতে। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন ভক্তরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন দর্শনার্থীরা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ।
দুর্গোৎসবকে পূর্ণতা দিতে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হয়েছে দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন প্রতিমা। শরীয়তপুর সদর উপজেলার পূর্ব কোটাপাড়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর এলাকার পালবাড়িগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ ঘিরে ছিল ব্যাপক ব্যস্ততা। স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কারিগররাও প্রতিমা নির্মাণে অংশ নিয়েছেন।
উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ২৬টি নির্দেশনাসংবলিত বিধিমালা জেলার উপজেলা কমিটিগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা প্রস্তুত, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নারী-পুরুষের যাতায়াতের পৃথক ব্যবস্থা এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট অমিত ঘটক চৌধুরী বলেন, শরীয়তপুরের ছয়টি উপজেলায় এ বছর ১০২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে নড়িয়ায় ৩৪টি ও সদর উপজেলায় ৩৩টি মণ্ডপ রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার সব পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে শরীয়তপুরের ১০২টি পূজামণ্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের নানা আয়োজন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ভক্তদের অংশগ্রহণ ও উৎসবের আনন্দে মুখর জেলার বিভিন্ন জনপদ। সবার প্রত্যাশা, শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে এবারের দুর্গোৎসব।

