
ভারতের কলকাতায় এক কিশোর ও তার বাবাকে নগ্ন করে ঘোরানোর অভিযোগের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। এবার ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের অন্তর্বাস পরিয়ে খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওই কিশোর, তার বাবা ও এক বন্ধুকে মারধর করে নগ্ন অবস্থায় ঘোরানো হয়। এ সময় কিশোরের মাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিন অভিযুক্তের কোমরে দড়ি বাঁধা। কলকাতা পুলিশের সদস্যরা তাদের দুই পাশে থেকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কয়েকজন পথচারীকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতেও দেখা যায়।
অভিযুক্তদের এভাবে হাঁটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, অপরাধের ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার ওই কিশোর এক বন্ধুকে নিয়ে কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। কিশোরীকে চুমু খাওয়ার অভিযোগে তার এক চাচা বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান। পরে কিশোর ও তার বন্ধুকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কিশোরকে তার মা-বাবাকে ডেকে আনতেও বাধ্য করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
কিশোর ও তার পরিবারের অভিযোগ, তাদের সামনে মামলা, গুলি করে হত্যা অথবা নগ্ন হয়ে রাস্তায় ঘোরার মতো তিনটি বিকল্প তুলে ধরা হয়েছিল। পরে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একটি দল অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালায়।
কিশোরের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাচেষ্টা, মারধর, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপহরণসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা করেছে। সোমবার কিশোরীর মা-বাবাসহ তার কয়েকজন স্বজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সৌগত রায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান অভিযুক্তদের তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন। তবে এ রাজনৈতিক অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কিশোর ও তার পরিবারের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ—দুই বিষয়ই এখন আলোচনায়।

