শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে গর্ভেশ্বরী শ্মশান কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের আলমডাঙ্গায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ পিচ ট্যাপেন্টাডলসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ২ দর্শনায় পাখিভ্যানে মাদক পাচারের চেষ্টা, ৬৮ বোতল এসকাপ সিরাপ উদ্ধার কুলাউড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে কোডিন সিরাপ উদ্ধার, একজনের বিরুদ্ধে মামলা সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে নীলফামারীতে ছাত্রজনতার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ত্রিভুজের নতুন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক, সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ৩১ অক্টোবর ২০২৬ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ৮৩ বছর বয়সে শুটিংয়ে দুর্ঘটনার শিকার অমিতাভ বচ্চন শাহজাদপুর মহাশ্মশানে হোমযজ্ঞের মধ্য দিয়ে দত্তক গ্রহণ কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের ফাঁদে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
সালনা পর্যটন রিসোর্ট চার বছরে লোকসান ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা
/ ৩৮ বার
প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা সালনা পর্যটন রিসোর্ট এন্ড পিকনিক স্পট চার বছরে আয় করেছে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর এই আয় করতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

যে পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি সরকারের আয় করার কথা, সেখানে উল্টো প্রতিবছরই বাড়ছে লোকসানের বোঝা। আর সেই লোকসানের বোঝায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এতো টাকা খরচ করে তৈরি করার পরও কেন পর্যটক টানতে পারছে না সালনা রিসোর্ট? কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নাকি পরিকল্পনা কিংবা প্রচার-প্রচারণার অভাবে পর্যটক টানতে পারছে না সরকারি এ রিসোর্ট- এমন প্রশ্ন অনেকেরই।

রাজধানী থেকে মাত্র ৩৬ কিলোমিটার উত্তরে শালবনে দাঁড়িয়ে আছে এই সরকারি রিসোর্ট। সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশ প্রকৃতিসহ সবকিছু মিলিয়ে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো রাজধানীর খুব কাছে রিসোর্টটির অবস্থান। পরিবার, বন্ধু, কিংবা কর্পোরেট আয়োজন ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য জায়গাটিকে ব্যবহার করার সুযোগ আছে। রিসোর্টে রয়েছে কটেজ, রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স হল, সবুজ প্রকৃতি, চারপাশে গাছপালা, পিকনিক শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। যেখানে থাকার কথা ছিল পর্যটকের পদচারণা, ভিড়, আড্ডাসহ নানা আয়োজন, সেখানে বাস্তবের চিত্র পুরো ভিন্ন। পর্যটকের পদচারণার চেয়ে এখানে বড় হয়ে উঠেছে সরকারি খরচের হিসাব।

জানা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল রিসোর্টটির নির্মাণকাজ। সালনা পার হয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে বন বিভাগের প্রায় ৯ বিঘারও বেশি জমির ওপর শালবনের প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনকেন্দ্রটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। সাড়ে তিন বছর পর ২০২২ সালের জুনে শেষ হয় নির্মাণকাজ। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রত্যাশা ছিল রাজধানীর কাছেই প্রকৃতির মধ্যে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ। কিন্তু স্থাপনা তৈরি হলেও পর্যটকের কাক্সিক্ষত সাড়া মেলেনি।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সূত্র বলছে, অবচয়সহ ২০২২-২৩ অর্থবছরে রিসোর্টটি পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে মাত্র ২৩ লাখ টাকা। ফলে ওই বছর লোকসান ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। পরের অর্থবছরেও খরচের খাতা ছিল ভারী। ব্যয় হয় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আয় আসে ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সে বছর আয় হয় ৬৭ লাখ টাকা। ফলে লোকসান হয় ১ কোটি ৩ লাখ টাকা।

সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিসোর্টটির পেছনে ব্যয় হয়েছে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অথচ আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ টাকায়। এক অর্থবছরেই সরকারের লোকসান ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। রিসোর্ট পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আয় হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ। অর্থাৎ চার বছরে অবচয়সহ সরকারি অর্থের প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আবাসিক, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাতে আয় হয়েছে ২২ লাখ ৪২হাজার ৩৯৬ টাকা আর ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭৪ টাকা, অর্থাৎ এ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৮ টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আবাসিক, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাতে আয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৩ টাকা আর ব্যয় হয়েছে ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৬ টাকা, অর্থাৎ এ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২১৩ টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে আবাসিক, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাতে আয় হয়েছে ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬১ টাকা, আর ব্যয় হয়েছে ৮৬ লাখ ১১ হাজার ৩২৫ টাকা, অর্থাৎ এ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৪ টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আবাসিক, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাতে আয় হয়েছে ৪৮ লাখ ৩ হাজার ৯০ টাকা আর ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৭৬ হাজার ২৩০ টাকা, অর্থাৎ এ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ১৪০ টাকা।

চারটি অর্থবছরে পর্যটন কর্পোরেশনের এ প্রতিষ্ঠান স্ট্যাবিলিসমেন্ট কস্ট বাদ দিয়ে আয় করেছে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৩০ টাকা। আর এই টাকা আয় করতে ব্যয় করতে হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার ৩২৫ টাকা। অর্থাৎ চার বছরে লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৯৫ টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকার কাছাকাছি হলেও রিসোর্টির নেই কোনো প্রচার-প্রচারণা। পরিবেশ প্রকৃতি সুন্দর হলেও মানুষকে জানাতে হবে, বিনোদন, সেবার মান ও নতুনত্ব থাকতে হবে।

চার বছরের ধারাবাহিক লোকসানের পর রিসোর্টটিকে আরও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক সাবির উদ্দিন আহমেদ। পর্যটক টানতে রিসোর্টটিকে আরও আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও নতুন সুযোগ-সুবিধাযুক্ত করা হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রকৃতির কোলে এ পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। তবে মানুষকে আকৃষ্ট করার মতো আরও অনেক কিছু সংযোজন করতে বাকি আছে। যেমন খেলার মাঠ নেই, কিডস্ জোন নেই, সুইমিংপুল নেই। এসব গড়ে তোলা হলে পর্যটকরা পরিবার নিয়ে এখানে আসবেন।

স্থানীয়রা বলছেন, সালনা রিসোর্ট শুধু একটি লোকসানি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সরকারি অর্থে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের পর তার ব্যবহার ও পরিচালনার প্রশ্নও সামনে আনে। প্রকল্পে একবার প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এরপর চার বছরে পরিচালন ব্যয় হয়েছে আরও ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সেই সময়ে আয় এসেছে মাত্র ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ স্থাপনা বানানোর পরও প্রকল্পটি নিজের খরচের বোঝা বহন করতে পারেনি। বরং প্রতি বছরই সরকারের অর্থ থেকে ঘাটতি পূরণ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বলেন, গাজীপুরের সালনা পর্যটন রিসোর্ট এন্ড পিকনিক স্পটে নানা ধরনের অসুবিধা রয়েছে। আমরা যখন কোনো পার্টি, আনন্দ ভ্রমণ, শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন ইভেন্টে বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করি তখন তারা তাদের জনবল সংকটের কথা বলেন। জনবল সংকটের জন্য তারা আমাদের ইভেন্ট বুকিং করতে পারে না। এ কারণে আমরা তাদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হই। এছাড়াও সুইমিং পুল নেই, অবাধে ভেতরে মোটরসাইকেল প্রবেশ, বহিরাগতদের আনাগোনা রয়েছে। সবমিলিয়ে সালনার পর্যটন স্পটকে আরও সম্পৃদ্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরের সালনা পর্যটন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পটে নতুন কিছু সুবিধা সংযোগ করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি, এগুলো নিয়ে কাজ করছি।

তিনি আরও জানান, সরকার এই প্রতিষ্ঠানে অর্থাৎ স্ট্যাবিলিসমেন্ট কস্ট হিসেবে সরকার যে টাকাটা ইনভেস্ট করেছে ওই টাকা পাঁচ বছরের মধ্যে তুলে নিতে হয়। ওই পাঁচ বছর ভাগ করে একটি হিসাব করে দেখা গেছে অনেক বড় লোকসান হয়েছে। প্রতি মাসে ইনকাম হোক আর না হোক ওই অবচয়টা বাদ দিতে হয়। এতে প্রতিষ্ঠান লাভে আসলেও নিট লাভ আসে না। এ কারণেই লোকসান দেখানো হয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ