
সুজন চক্রবর্তী, ভারত প্রতিনিধিঃ
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশবাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে। দিল্লিতে আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের আটকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন অভিজিৎ দীপকে। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নেহা বোরা ও প্রকাশ রাজ। এর একদিন আগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তিহার জেলে পাঠানো হয়।
দিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত তরুণ-তরুণীদের পুলিশ যেভাবে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দীপকে। তিনি বলেন, দিল্লির যুবসমাজ আজ রাজপথে নেমে লড়াই করছে। অথচ আন্দোলনকারীদের আটক করে হেনস্তা করা হচ্ছে। নেহা, আয়েশা কিংবা ইশাদের কেন এভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একজন জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অভিজিৎ দীপকে আরও বলেন, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও আটক করা হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, একজন ব্যক্তিকে আড়াল করতে গিয়ে দিল্লির ট্রেন ও পরিবহন পরিষেবা পর্যন্ত স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের আটক এবং বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।

