
কাজী আলী আকবর দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা:
দেশের চিনি শিল্পকে ঘুরে দাঁড় করানো এবং আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। এর আওতায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের আওতাধীন ৩ হাজার ১৩১ জন আখচাষি পেয়েছেন ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা। উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশলে আখ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এ প্রণোদনা দেওয়া হয়। প্রণোদনার অর্থ সরাসরি কৃষকদের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাওয়ায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
দর্শনা কেরু ট্রেনিং কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে কেরু চিনিকলের কর্মকর্তা ও কৃষকেরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন চিনিকলের আওতাধীন আখচাষিদের জন্য এ প্রণোদনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন চিনিকলের আওতাধীন মোট ৩৮ হাজার ৯৭০ জন কৃষকের মধ্যে ১২ কোটি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পরপরই নির্ধারিত কৃষকদের মোবাইল ফোনে প্রণোদনার অর্থ জমা হওয়ার বার্তা পৌঁছে যায়।
দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরু চিনিকলের আওতায় ৩ হাজার ১৩১ জন আখচাষি ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা প্রণোদনা পেয়েছেন। ভবিষ্যতে কৃষকেরা যাতে আরও বেশি প্রণোদনা পান, সে বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি মৌসুমে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, চিনি শিল্পকে লোকসানের চাপ থেকে বের করে আনতে হলে আখের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ জন্য কেরু চিনিকলের আওতাধীন এলাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আখ চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেরু চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সাত্তার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, জিএম (ডিস্টিলারি) রাজিবুল হাসান, এডিএম (প্রশাসন) ওমর আল ফারুক, মির্জা গালিব, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মাহাবুবুর রহমান এবং দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসফাকুর রহমান।
এ ছাড়া আখচাষিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জালাল উদ্দীন লিটন, আফজালুর রহমান ধীরু, ইউনুস আলী, লিকু মিয়াসহ প্রায় ৪০ জন কৃষক।কৃষকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আর্থিক সহায়তা ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রসারের মাধ্যমে আখ উৎপাদন বাড়বে। সেই সঙ্গে কেরু চিনিকলের কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত হবে এবং দেশের চিনি শিল্পের সম্ভাবনাও আরও শক্তিশালী হবে।

