
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ। সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, ২০২৭ সালেও জ্বালানি পণ্যের বাজার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার, ২৬ অক্টোবর, সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি উইক’ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফাতিহ বিরোল।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আইইএ প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, তেলের দাম ১২০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দাম আরও বেশি।
তবে জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাব সব দেশের ওপর সমানভাবে পড়ছে না। ফাতিহ বিরোল বলেন, ইউরোপের দেশগুলো বেশি দামে তেল কেনার সামর্থ্য রাখলেও বিশ্বের অনেক দেশের জন্য ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার দামে তেল কেনা অত্যন্ত কঠিন। এতে এসব দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
আসন্ন শীত মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইইএ প্রধান। তিনি সতর্ক করে বলেন, শীতে ইউরোপে জ্বালানির চাহিদা বাড়বে এবং অঞ্চলটির দেশগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি কমানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ ইউরোপের জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগের মতো গ্যাস রপ্তানি করতে না পারায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের সরবরাহেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসায়িক খাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফাতিহ বিরোল। তাঁর মতে, আগামী বছরগুলোতেও জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় সংকট মোকাবিলায় এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

