চুয়াডাঙ্গার আমে মিষ্টি সুখবর: ১৩ মে থেকে শুরু হচ্ছে আম পাড়া, ভালো ফলনের আশায় চাষি-বাগান মালিকরা
- আপডেট সময় : ০১:২৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেই চুয়াডাঙ্গার মানুষকে স্বস্তির খবর দিলো আমের মৌসুম। জেলার সুস্বাদু ও সুগন্ধি আম বাজারে আসতে শুরু করবে আগামী ১৩ মে থেকে। প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম ধাপে আঁটি, গুটি, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে।জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার।ঘোষিত আম সংগ্রহ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী— ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ ও বোম্বাই,২২ মে হিমসাগর, ২৮ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি, ২০ জুন হাঁড়িভাঙা, ২২ জুন ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ৩০ জুন আশ্বিনা (বারি-৪), ৫ জুলাই কাটিমন এবং ৩১ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/11/চুয়াডাঙ্গায়-শুরু-হলো-দ/
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১৩ মে বেলা সাড়ে ১১টায় পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি গ্রামের আমচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল কুদ্দুস মহলদারের বাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া উদ্বোধন করা হবে। উল্লেখ্য, গত বছর এসব জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছিল ১৫ মে থেকে। এবার দুই দিন আগেই মৌসুম শুরু হওয়ায় চাষিদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, গত বছর আমের জন্য ‘অফ ইয়ার’ থাকলেও এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, “জেলায় এ বছর ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ১৩ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন হিসেবে মোট ৩ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা ফল ও আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস মহলদার।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/11/ফেনীতে-মা-দিবসে-মাদকাসক্/
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “স্বাদ ও গন্ধে চুয়াডাঙ্গার আম ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিকভাবে অপরিপক্ব আম সংগ্রহ করা যাবে না।”জেলার আমচাষিদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি বাজারেও মিলবে ভালো দাম। ফলে কৃষকের মুখে ফিরবে হাসি, আর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে চুয়াডাঙ্গার সুস্বাদু আম।





















