টেকনোলজিস্ট ছাড়াই পরীক্ষানিরীক্ষা, সাবেক কর্মীর সিল-স্বাক্ষর জাল করে রিপোর্ট!
- আপডেট সময় : ০২:৪০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি স্পর্শকাতর খাত। আর সেই খাতেই যদি ভুয়া রিপোর্ট, জাল স্বাক্ষর আর অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হয়—তাহলে সেটি শুধু অনিয়ম নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়ংকর হুমকি। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নিউ ডিজিটাল প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড শোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/14/কালীগঞ্জে-হতদরিদ্রদের-মা/
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে কোনো অভিজ্ঞ ও নিবন্ধিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের বিভিন্ন প্যাথলজি পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—প্রায় চার মাস আগে চাকরি ছেড়ে যাওয়া এক টেকনোলজিস্টের নাম, পদবী, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করেই এসব রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/14/আলমডাঙ্গা-ইউএনও-মিজ্-পান/
স্থানীয় সূত্র জানায়, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যূনতম নিয়মকানুন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণহীন ও অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হচ্ছে। ফলে ভুল রিপোর্টের ঝুঁকি বাড়ছে, যা রোগীদের ভুল চিকিৎসার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সাবেক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মেহেদী হাসান প্রায় চার মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিলেও এখনও তার নাম ব্যবহার করে রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি তার সিল ও স্বাক্ষরও জাল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি প্রায় চার মাস আগে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। এখনো যদি আমার নাম, পদবী ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে রিপোর্ট দেওয়া হয়, তাহলে সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং গুরুতর অপরাধ। প্রয়োজনে আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/14/রাজশাহীতে-২-প্রতিষ্ঠানকে/
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন নিবন্ধিত টেকনোলজিস্ট ছাড়া প্যাথলজি ল্যাব পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী যথাযথ অনুমোদন ও নিবন্ধিত জনবল ছাড়া কোনো ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশেদ বীন ফয়সাল তানজীর বলেন, “স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের জালিয়াতি অত্যন্ত ভয়াবহ। একজন টেকনোলজিস্ট চাকরি ছেড়ে যাওয়ার পরও তার নামে রিপোর্ট তৈরি হওয়া মানে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। মানুষ মনে করছে অভিজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হচ্ছে, অথচ বাস্তবে তা নয়। এটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, “প্যাথলজি পরিচালনার জন্য অবশ্যই বৈধ কাগজপত্র ও নিবন্ধিত প্যাথলজিস্ট থাকতে হবে। কারও সিল-স্বাক্ষর জাল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে।” দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হতে পারে।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/14/দিনাজপুরে-কলেজছাত্রী-ধর্/
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদও বিষয়টিকে “জনগণের সঙ্গে প্রতারণা” উল্লেখ করে বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য প্যাথলজিস্ট ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রাইভেট ক্লিনিক নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার নামে এমন প্রতারণা বন্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, ভুল রিপোর্ট শুধু একটি কাগজের ভুল নয়—এটি একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।





















