ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপ ও ৪৫ ডিগ্রি গরমে মেক্সিকোতে দেড় মাস আগেই শেষ স্কুল বছর ভূমি উন্নয়ন কর আপত্তি নিষ্পত্তিতে ৭ দিনের নির্দেশনা গাজীপুরে মাদক ও নগদ টাকাসহ তিন যুবক গ্রেফতার ছাতকে এক রাতেই ১৫শ মোরগ, ক্ষতি সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি  আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২,২১৬ টাকা বৃদ্ধি উতরপ্রদেশের যমুনায় নৌকাডুবি! নিখোঁজ ৬ হাউসপুরে রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

বশিরুল আলম, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ডি-১৫ এন (বেলগাছি ইছেরদাড়ী) খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ কাজের শুভ সূচনা করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় মন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ১৪ জন ঠিকাদারের মাধ্যমে খননকাজ সম্পন্ন হবে। খালের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গভীরতা ১.৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন। বেলগাছি, নাগদহ, আঁইলহাস ও জেহালা ইউনিয়নের কৃষিতে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। একই সঙ্গে আলমডাঙ্গা পৌরসভার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই খাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, অতীতে অবহেলা ও দখলের কারণে অনেক খাল নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে এবং কৃষিকে বাঁচাতে হলে খাল খননের কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার কৃষির উন্নয়নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। খাল খননে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।” জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণ করা হবে এবং এ কাজে স্থানীয় নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, খাল পুনঃখনন হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পানির স্তর স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরে আসবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, অতীতে খাল দখল ও অপব্যবহারের কারণে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার প্রকৃত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণ সুফল পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি জেলার কৃষি ও শিল্প উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে দর্শনা স্থলবন্দর চালু, হিমাগার স্থাপন, রাজশাহীগামী ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক মাটি পরীক্ষাগার স্থাপনের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাউবো পশ্চিমাঞ্চল (ফরিদপুর)-এর প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা। সভা শেষে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার পানিসম্পদ মন্ত্রীর হাতে বধ্যভূমির স্মৃতিবিজড়িত একটি ফটোফ্রেম সম্মাননা স্মারক হিসেবে তুলে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ডি-১৫ এন (বেলগাছি ইছেরদাড়ী) খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ কাজের শুভ সূচনা করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় মন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ১৪ জন ঠিকাদারের মাধ্যমে খননকাজ সম্পন্ন হবে। খালের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গভীরতা ১.৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন। বেলগাছি, নাগদহ, আঁইলহাস ও জেহালা ইউনিয়নের কৃষিতে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। একই সঙ্গে আলমডাঙ্গা পৌরসভার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই খাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, অতীতে অবহেলা ও দখলের কারণে অনেক খাল নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে এবং কৃষিকে বাঁচাতে হলে খাল খননের কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার কৃষির উন্নয়নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। খাল খননে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।” জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণ করা হবে এবং এ কাজে স্থানীয় নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, খাল পুনঃখনন হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পানির স্তর স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরে আসবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, অতীতে খাল দখল ও অপব্যবহারের কারণে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার প্রকৃত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণ সুফল পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি জেলার কৃষি ও শিল্প উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে দর্শনা স্থলবন্দর চালু, হিমাগার স্থাপন, রাজশাহীগামী ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক মাটি পরীক্ষাগার স্থাপনের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাউবো পশ্চিমাঞ্চল (ফরিদপুর)-এর প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা। সভা শেষে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার পানিসম্পদ মন্ত্রীর হাতে বধ্যভূমির স্মৃতিবিজড়িত একটি ফটোফ্রেম সম্মাননা স্মারক হিসেবে তুলে দেন।