ছাতকে এক রাতেই ১৫শ মোরগ, ক্ষতি সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একটি পোল্ট্রি খামারে রহস্যজনকভাবে বিষ প্রয়োগে প্রায় ১২শ থেকে ১৫শটি মোরগ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক রাতের ব্যবধানে খামারের অধিকাংশ মোরগ মারা যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় খামার মালিক মোঃ হুশিয়ার আলী ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। খামার মালিক হুশিয়ার আলী ছাতক পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি নিজ বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ২ হাজারটি বাউন কক জাতের মোরগ নিয়ে একটি খামার পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে খামার পরিদর্শন শেষে তিনি ঘুমাতে যান। পরদিন সকাল ৬টার দিকে খামারে গিয়ে দেখতে পান, সারি সারি মোরগ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/07/আলমডাঙ্গা-উপজেলা-স্বাস্থ/
তার দাবি, এ ঘটনায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। হুশিয়ার আলীর অভিযোগ, জায়গা-জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে পূর্ব শত্রুতার কারণে পরিকল্পিতভাবে খামারে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত মোঃ আবুল মিয়ার স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, “ঘটনাটি সত্য হতে পারে বলে আমি মনে করি।” তিনি আরও বলেন, “জায়গা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়ের জামাইকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।” একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তাদের ছেলে ও মেয়েও। এদিকে, বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকরা অভিযুক্ত আবুল মিয়ার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/07/হাউসপুরে-রাস্তা-নির্মাণ/
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিলন মিয়া বলেন, “প্রাথমিক পরিদর্শনে কোনো বাহ্যিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করে এত সংখ্যক মোরগ মারা যাওয়া উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ল্যাবে পাঠানো হবে।” ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ছাতক উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।” ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।




















