লক্ষ্মীপুরে ২৫৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই: এক যুগ ধরে চলছে সংকট
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
লক্ষ্মীপুরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম শিক্ষক সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলার ৫টি উপজেলার ২৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ বছর ধরে নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। কোথাও ৩ বছর, আবার কোথাও দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে এই পদ। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা। ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান। লক্ষ্মীপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখন অভিভাবকহীন। জেলার অন্তত ২৫৮টি বিদ্যালয়ে নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। শুধু তাই নয়, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও রয়েছে শূন্য। এতে করে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড যেমন ভেঙে পড়ছে, তেমনি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য বলছে, সংকটের চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়; যেখানে ১০৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া রামগঞ্জে ৭৪টি, রামগতিতে ৪৩টি এবং রায়পুর ও কমলনগরে ১৬টি করে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে। অনেক বিদ্যালয়ে ১০ থেকে ১৪ বছর ধরে চলছে এই অচলাবস্থা। ফলে সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দাপ্তরিক ফাইল সামলাতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে সময় দিতে পারছেন না। “আমরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি বছরের পর বছর। অফিসের নথিপত্র, মিটিং আর প্রশাসনিক কাজ সামলে ক্লাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে আমরা পাঠদানে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারতাম।”
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/12/যশোর-সদরে-সাড়ে-৪-শতাধিক-ক/
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদোন্নতি বন্ধ থাকা, মামলা জটিলতা এবং দীর্ঘ সময় নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক নেতাদের দাবি, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রশাসনিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর। দ্রুত সময়ের মধ্যে পদোন্নতি ও নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট দূর করার দাবি তাদের। শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, বিধি অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও আইনি জটিলতায় তা থমকে আছে। তবে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় দ্রুত এই সংকট নিরসনের আশ্বাস দিচ্ছে স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/12/নড়াইলে-ইয়াবা-ট্যাবলেটস/
“আমরা নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এই শূন্যপদের বিষয়ে অবহিত করছি। আশা করছি দ্রুতই মামলা জটিলতা নিরসন হবে এবং পদোন্নতির মাধ্যমে এই বিশাল শূন্যতা পূরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।” উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের প্রাথমিক শিক্ষার মান ফেরাতে দ্রুত এই শিক্ষক সংকট দূর হবে—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলের।




















