ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২,২১৬ টাকা বৃদ্ধি উতরপ্রদেশের যমুনায় নৌকাডুবি! নিখোঁজ ৬ হাউসপুরে রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ আধুনিক ডেইরি ব্যবস্থাপনায় নারী খামারিদের প্রশিক্ষণ দিল ব্র্যাক ‘প্রথম ভালোবাসা নিয়ে ভাইরাল হতে চাই না,’ জানালেন তানজিয়া জামান মিথিলা মেরির মূর্তি অবমাননা বিজেপির জয়ে বিএনপি নেতার অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আলমডাঙ্গায় মানবাধিকার কমিশনের ফ্রি টিউবওয়েল উদ্যোগ, বিশুদ্ধ পানির স্বস্তি

বশিরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, আলমডাঙ্গা শাখা। সংগঠনটির উদ্যোগে বিনামূল্যে টিউবওয়েল প্রতিস্থাপন কার্যক্রম ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ছত্রপাড়া হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি ফ্রি টিউবওয়েল প্রতিস্থাপন করা হয়। এ সময় সরেজমিনে কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। গত মাসে বিষয়টি জানার পর আমি তাদের সাধুবাদ জানিয়েছিলাম এবং আশ্বাস দিয়েছিলাম—সকল ভালো কাজে আমি পাশে থাকতে চাই।”এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. লিয়াকত আলী, শাখার সভাপতি আল আমিন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম এবং মানবাধিকার কর্মী মাহমুদুল হাসান ইমরানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/06/আলমডাঙ্গার-রাজনীতিতে-নতু/

সংগঠনের সভাপতি আল আমিন হোসেন জানান, প্রবাসী দাতা সদস্য জামিল ইসলামের আর্থিক সহায়তায় উপজেলা জুড়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসে পাঁচটি করে টিউবওয়েল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু টিউবওয়েল স্থাপন নয়; বরং আলমডাঙ্গার মানুষের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা তৈরি করা।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম জানান, মানবাধিকার কমিশনের এই শাখা শুধু পানীয় জলের ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং মাদকবিরোধী সচেতনতা, মানবাধিকার রক্ষা, শীতবস্ত্র বিতরণ, গৃহ নির্মাণ, রক্তদান কর্মসূচি, ঈদ সামগ্রী বিতরণ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/06/অপারেশন-থিয়েটার-ও-ল্যাব/

তিনি বলেন, “আমরা বছরে অন্তত ৬০টি টিউবওয়েল স্থাপন, ১০টি ঘর নির্মাণ এবং ২০০ ব্যাগ রক্তদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।”স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভোগান্তিতে ছিলেন তারা। নতুন টিউবওয়েল স্থাপনের ফলে নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখা নিয়মিতভাবে এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সংগঠনটির পরিকল্পনায় প্রতি মাসে টিউবওয়েল স্থাপনের পাশাপাশি বছরে অন্তত ১০টি গৃহ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ শুধু মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণই নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠছে—যেখানে সরকারি প্রশাসন ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে মানবিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আলমডাঙ্গায় মানবাধিকার কমিশনের ফ্রি টিউবওয়েল উদ্যোগ, বিশুদ্ধ পানির স্বস্তি

আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, আলমডাঙ্গা শাখা। সংগঠনটির উদ্যোগে বিনামূল্যে টিউবওয়েল প্রতিস্থাপন কার্যক্রম ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ছত্রপাড়া হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি ফ্রি টিউবওয়েল প্রতিস্থাপন করা হয়। এ সময় সরেজমিনে কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। গত মাসে বিষয়টি জানার পর আমি তাদের সাধুবাদ জানিয়েছিলাম এবং আশ্বাস দিয়েছিলাম—সকল ভালো কাজে আমি পাশে থাকতে চাই।”এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. লিয়াকত আলী, শাখার সভাপতি আল আমিন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম এবং মানবাধিকার কর্মী মাহমুদুল হাসান ইমরানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/06/আলমডাঙ্গার-রাজনীতিতে-নতু/

সংগঠনের সভাপতি আল আমিন হোসেন জানান, প্রবাসী দাতা সদস্য জামিল ইসলামের আর্থিক সহায়তায় উপজেলা জুড়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসে পাঁচটি করে টিউবওয়েল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু টিউবওয়েল স্থাপন নয়; বরং আলমডাঙ্গার মানুষের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা তৈরি করা।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম জানান, মানবাধিকার কমিশনের এই শাখা শুধু পানীয় জলের ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং মাদকবিরোধী সচেতনতা, মানবাধিকার রক্ষা, শীতবস্ত্র বিতরণ, গৃহ নির্মাণ, রক্তদান কর্মসূচি, ঈদ সামগ্রী বিতরণ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/06/অপারেশন-থিয়েটার-ও-ল্যাব/

তিনি বলেন, “আমরা বছরে অন্তত ৬০টি টিউবওয়েল স্থাপন, ১০টি ঘর নির্মাণ এবং ২০০ ব্যাগ রক্তদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।”স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভোগান্তিতে ছিলেন তারা। নতুন টিউবওয়েল স্থাপনের ফলে নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখা নিয়মিতভাবে এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সংগঠনটির পরিকল্পনায় প্রতি মাসে টিউবওয়েল স্থাপনের পাশাপাশি বছরে অন্তত ১০টি গৃহ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ শুধু মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণই নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠছে—যেখানে সরকারি প্রশাসন ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে মানবিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত।