অপারেশন থিয়েটার ও ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ: জীবননগরে ক্লিনিকে জরিমানা, রোগী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ১২:১৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অপারেশন থিয়েটার ও ল্যাবের ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও রিএজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে। জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এমন অনিয়মের দায়ে ভ্রাম্যমাণ অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬ ইং) দুপুরে জীবননগর উপজেলায় ফিলিং স্টেশন, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারজুড়ে পরিচালিত তদারকিমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, ক্যাব প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল। অভিযান সূত্রে জানা যায়, মনোয়ারা খাতুনের মালিকানাধীন মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে অপারেশন থিয়েটারের ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং ল্যাবের ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট সংরক্ষণের পাশাপাশি তা ব্যবহারেরও প্রমাণ পাওয়া যায়। যা সরাসরি রোগীদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/06/অদম্য-ওয়াহিবা-প্রতিকূল/
এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও রিএজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সরাসরি রোগীর জীবনের সাথে প্রতারণার শামিল।” তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বা রিএজেন্ট ব্যবহার শুধু চিকিৎসার ফলাফলকে ব্যাহত করে না, বরং রোগীর জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন অনিয়ম চরম উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা সবচেয়ে বেশি—সেখানে যদি এ ধরনের অবহেলা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/06/সরকারি-কাজে-বাধা-ও-পুলিশক/
জীবননগরের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—স্বাস্থ্যসেবায় সামান্য অবহেলাও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগই পারে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করতে এবং নিশ্চিত করতে নিরাপদ চিকিৎসা সেবা।




















