আলমডাঙ্গায় মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ, চালককে ঘিরে রহস্য ও আপসের গুঞ্জন
- আপডেট সময় : ০২:২২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার নতিডাঙ্গা মসজিদপাড়ার প্রবাসী হাবিবুর রহমান। পরিবারজুড়ে ছিল আনন্দ আর অপেক্ষার আবহ। কিন্তু সেই আনন্দময় প্রত্যাবর্তনই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় আতঙ্ক আর রহস্যঘেরা এক ঘটনায়। গভীর রাতে কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সড়কে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারানোর অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী পরিবারটির বিরুদ্ধে। আর ঘটনার পর থেকেই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় মহলে।
জানা গেছে, নতিডাঙ্গা মসজিদপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থান শেষে গতকাল রাতে দেশে ফেরেন। তাকে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড় মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে একটি হাইস মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়। তার দুলাভাই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে হাবিবুর রহমানকে নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।মাইক্রোবাসে হাবিবুর রহমান ছাড়াও তার বাবা-মা, ছেলে, ভাগ্নে ও দুলাভাই ছিলেন। পরিবারটি পদ্মা সেতু হয়ে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা সড়ক দিয়ে ফিরছিল। গভীর রাতে কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সড়কের শ্রীরামপুর এলাকা অতিক্রম করে জেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে তাদের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/13/আলমডাঙ্গায়-মাদকবিরোধী-12/
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ,পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তার ওপর চিকন একটি গাছ ফেলে রাখা হয়েছিল। গাছটি দেখে গাড়ি থামানোর সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত মাইক্রোবাস ঘিরে ফেলে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গাড়ির ভেতরে। ডাকাতরা প্রবাসী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে থাকা প্রায় ১৩ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, মালয়েশিয়ান ৮০০ রিংগিত এবং তার মায়ের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। তবে প্রবাস থেকে আনা অন্যান্য মালামালে হাত দেয়নি বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীরা রাতে থানায় গিয়ে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালায়। তবে রহস্য আরও ঘনীভূত হয় মাইক্রোবাসের চালককে ঘিরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় চালকের কথাবার্তায় অসংগতি ও সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-চ ৫৬-৫৪৮৩। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।এদিকে স্থানীয়ভাবে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, প্রবাসী হাবিবুর রহমান পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চালকের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করে বিষয়টি আর এগিয়ে নেননি। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/13/মাঠের-দুরন্ত-অপু-থেকে-রহস/
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও গভীর রাতে মহাসড়কে যাতায়াত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















