রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতা: সময়ের সঙ্গে বাড়ছে দায়বদ্ধতা টক বড়ই চাষে কোটিপতি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন আজ । বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’ জাতিসংঘে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ইতালির কোম্পানিকে আমন্ত্রণ স্পিকারের ‘উগ্রবাদী সংগঠন’ গড়ার পরিকল্পনা থেকে মসজিদে বৈঠক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন অনেক বড় সম্মানের বিষয় : চীনা রাষ্ট্রদূত পঞ্চগড়ে সীমান্তের ৩৩ যুবক পেল ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণের সনদ হারিয়ে যাওয়া ৫৬টি মোবাইল ফোন হস্তান্তর গাজীপুরে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা। প্রতাপনগরে হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীর দোকান পুড়িয়ে দিল দুষ্কৃতকারীরা
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন আজ । বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’ জাতিসংঘে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
/ ৫ বার
প্রকাশিত : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ন

ডেক্স : সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রোববার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেবেন বলে জানান তিনি।
বরাবরের মতো বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান বাংলায় ভাষণ দেবেন জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।”
কয়েকটি কারণে এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে মন্তব্য করে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
“দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।”
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার সকালে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। নিউ ইয়র্কে পৌঁছে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন।
“সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন।”
ওইদিন সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন।
একই দিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর তিনি এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এসব সভায় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের তথ্য দিয়ে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরে তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
“২৪ সেপ্টেম্বরে তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করবেন।”
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানান আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ আরো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও প্রধানমন্ত্রীর সূচিতে থাকার কথা জানান পররাষ্ট্র সচিব।
এবার জাতিসংঘ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ জন হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব। তাদের মধ্যে থাকছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন ইকরামও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “সামগ্রিকভাবে, এই সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
“এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চাই।”
নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গার সংকট নিয়ে বিশেষ কী থাকছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি চলমান সমস্যা। সুতরাং আমরা যেহেতু জাতিসংঘে যাচ্ছি, লিডার্স সামিট পর্বে, আমরা এবারও প্রত্যেকবারের মতো রোহিঙ্গা সমস্যার বিশালত্ব, এর চ্যালেঞ্জগুলো এবং বৈশ্বিকভাবে যে সহযোগিতাগুলো, সাহায্যগুলো, সমর্থনগুলো বাংলাদেশের পাওয়া দরকার, সেটা বৈশ্বিক সভায় সকলের কাছে চাইব।”
বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে পৃথক প্রশ্নে একই উত্তর দেন পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি বলেন, “যখন বহুপাক্ষিক সম্মেলনগুলো রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধানরা যান, তখন যে কর্মসূচিটা তৈরি করা হয়, এটা একটা চলমান কর্মসূচি, এটা এই রকম না যে, যা কিছু আমরা নির্ধারণ করে দিলাম সেগুলাই হবে, কোনো কিছু বাদ পড়বে না; আবার যা কিছু আমরা নির্ধারণ করে যাইনি, তার কোনোটা অন্তর্ভূক্ত হবে না। সুতরাং এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। দেখি, এটা কীভাবে সামনে এগোয়।”

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ