প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন
মাগুরার প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজে অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ইন্টার্নি সনদ বিতরণে বিলম্ব এবং পরীক্ষার হলে নকলের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কলেজের সভাপতি ও মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ।
অভিযোগকারীদের দাবি, কলেজের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। এমনকি নির্ধারিত সময়ে কলেজ খোলা না থাকা এবং শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
ঝিনাইদহের বামনআইল গ্রামের কানাই বিশ্বাস অভিযোগ করেন, ২০১৯ বা ২০২০ সালে ভর্তি হওয়ার সময় এবং পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ ও বার্ষিক ভর্তি বাবদ তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব অর্থ পরিশোধের বিপরীতে তাঁকে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মাগুরা পুলিশ লাইন এলাকার খিজির হাসানের অভিযোগ, ২০২২ সালে ডিএএমএস পাস করার পরও তিনি ইন্টার্নি সনদপত্র পাননি। সনদ পেতে তাঁর কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ বিতরণ না করা, কলেজের জমির বর্গা থেকে পাওয়া অর্থের হিসাব এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
কলেজটির বার্ষিক পরীক্ষায় বই খুলে নকল করার অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা নকল করার সুযোগ পান এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিও পর্যাপ্ত থাকে না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলেজের সভাপতি ও মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি কয়েক দিন আগে বিষয়টি জেনেছেন। সাংবাদিক ফারুক আহমেদকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা হলরুমে ম্যাজিস্ট্রেট রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।