
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। এ কারণে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে চান তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অসুস্থতার কথা জানান তিনি। পরে পরীক্ষা করে তাঁর রক্তচাপ বেশি পাওয়ায় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন এক চিকিৎসক।
মঙ্গলবার দুপুরে চুয়েটের উপাচার্য ভবনে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভবনটিতে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্যসহ অন্তত ১১ জন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর বুকের বাঁ পাশে ব্যথা করছে। এ কারণে তিনি চিকিৎসক দেখাতে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে চান।
উপাচার্যের অসুস্থতার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন তাঁর দপ্তরে যান। পরীক্ষা শেষে তিনি জানান, উপাচার্যের পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রক্তচাপ পাওয়া যায় ১২০/৮০। তবে উপাচার্য মাঝেমধ্যে রক্তচাপের ওষুধ খান বলে জানান তিনি।
পরে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপুল কান্তি দে উপাচার্যকে পরীক্ষা করেন। তিনি জানান, উপাচার্যের রক্তচাপ ১৫০/১০০ পাওয়া গেছে। বুকে ব্যথার কথা বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
এদিকে, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
গতকাল শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে উপাচার্য নিজের কার্যালয়ে প্রবেশের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা আবারও ভবনের ফটকে তালা দেন এবং পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য পদত্যাগ করলেই তাঁরা তালা খুলে দেবেন। অন্যদিকে, চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসানউল্লাহ জানিয়েছেন, তাঁদের অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

