
কাজী আলী আকবর, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গাঃ
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে দর্শনা থানা পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে পৃথক দুটি অভিযানে উপজেলার ঝাঝাডাঙ্গা ও নাস্তিপুর গ্রাম থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে দর্শনা থানার এসআই খুরশীদ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঝাঝাডাঙ্গা গ্রামের বেলে মাঠপাড়া এলাকায় প্রথম অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নিজ বসতবাড়ি থেকে মো. আব্দুল হাদি (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার আব্দুল হাদি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।
এরপর একই রাতে আনুমানিক ৩টার দিকে নাস্তিপুর গ্রামে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ অভিযানে নিজ বসতবাড়ি থেকে ইয়াজতুল্লাহ (৫০) নামের অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর হেফাজত থেকে ৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ইয়াজতুল্লাহ নাস্তিপুর গ্রামের কায়েদ আলী বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মধ্যে আব্দুল হাদির কাছ থেকে ৪৫ পিস এবং ইয়াজতুল্লাহর কাছ থেকে ৫৫ পিস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ ১০০ পিস। গভীর রাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই গ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দর্শনা থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান ও শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়ভাবে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। মাদকসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য পুলিশকে জানানো এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত ভূমিকা রাখা সম্ভব।

