
তুষার আহমেদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের কেদারনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বুধবার বেলগাছি বোর্ড বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি এখন সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে গেছি। বর্তমানে কোনো অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। একটি ছোট মুদি দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসার পরিচালনা করি। অথচ আমার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা আমাকে সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।”
তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। বর্তমানে তিনি মুদি দোকানের আয় দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে জানান।
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ
জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, স্থানীয় দৈনিক সকালের খোঁজখবর পত্রিকার ব্যুরো প্রধান পরিচয়দানকারী সাংবাদিক রানা তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর কাছে এসে প্রতিবাদ প্রকাশের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, আর্থিক সংকটের কারণে এত টাকা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, একটি ছোট মুদি দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালানোই তাঁর জন্য কঠিন। তবে সাংবাদিক রানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাহাঙ্গীরের পক্ষে বিএনপি নেতার বক্তব্য
জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, “জাহাঙ্গীর এখন ভালো হয়ে গেছে। সে বর্তমানে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে আমরা জানি। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে অবৈধভাবে টাকা দাবি করা হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। সংবাদ প্রকাশের নামে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হয়রানি করা বা অর্থ দাবির অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের দাবি
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য ও প্রতিবাদ যথাযথভাবে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
এদিকে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের অভিযোগ এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তাঁর উত্থাপিত অর্থ দাবির অভিযোগ—উভয় বিষয়ই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক রানা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

