
বশিরুল আলম, চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পাখিভ্যানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা লেগে রবিউল (১৭) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার হাটবোয়ালিয়া–ভালাইপুর সড়কের ভাংবাড়ীয়া নতুনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রবিউল ভাংবাড়ীয়া নতুনপাড়ার বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। পরিবারের আদরের এই সন্তানকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ স্বজনেরা। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
খাবার পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনা
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ছিল ভাংবাড়ীয়া এলাকার সাপ্তাহিক হাটের দিন। এদিন রবিউল স্থানীয় একটি দোকান থেকে পরিবারের জন্য খাবার কিনে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে একই পাখিভ্যান নিয়ে মহেশপুর মোড়ের দিকে যাওয়ার পথে ভাংবাড়ীয়া নতুনপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সে ভ্যানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় নিয়ন্ত্রণহীন পাখিভ্যানটি সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় রবিউল গুরুতর আহত হয়। তার চিৎকার ও দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢাকায় নেওয়ার পথেই নিভে গেল প্রাণ
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিউলের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে রবিউল।
যে বয়সে বই-খাতা হাতে নিয়ে পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে বিভোর থাকার কথা, সেই বয়সেই অকালে ঝরে গেল একটি প্রাণ। রবিউলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি।
সন্তানের শোকে দিশাহারা বাবা
প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা ছানোয়ার হোসেন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট রবিউল ছিল পরিবারের অত্যন্ত আদরের। তার মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরাও শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসছেন।
একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের অনেক প্রত্যাশা। রবিউলের এই অকাল প্রয়াণ আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে সামান্য অসতর্কতাও কখনো কখনো একটি জীবনের চিরসমাপ্তি ডেকে আনতে পারে।
রবিউলের মৃত্যুতে ভাংবাড়ীয়া নতুনপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকাহত পরিবারটি তাদের আদরের সন্তানকে হারিয়ে এখন গভীর বেদনা ও শূন্যতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

