
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা, শিক্ষক সংকট এবং জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। শনিবার রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থল প্লেস দে লা রিপাবলিক এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেখানে একদল বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ব্যাংকে হামলা, দোকানে লুটপাট এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দফায় দফায় টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই শহরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে সিটি হলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ভবনের দেয়ালে সরকারের নীতিবিরোধী বিভিন্ন চিহ্ন আঁকার ঘটনাও ঘটে। গত মাসে প্যারিসের দরিদ্র উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলির কয়েকটি স্কুলে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হন পেনশনার, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকেরা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সরকারি নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষের কারণে আন্দোলনটি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিক্ষোভকে ২০১৮ সালের ফ্রান্সের আলোচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের পুনরুত্থান হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে। ওই আন্দোলনেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল। এদিকে, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ সবাইকে শান্ত থাকার এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংঘর্ষ ও নাশকতার জন্য তথাকথিত অতি-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। শিক্ষা খাতের সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রতিফলন হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

