মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রীমঙ্গলের প্রবাসী যুবকের মৃ”ত্যু আলমডাঙ্গায় আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গায় পাঁচটি রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর দাবি ভারতের উত্তরাখন্ডের জোশীমঠের কাছে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে ৬ জনেরই মৃত্যু  কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫০.৫৫ শতাংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাপ্তাহিক ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ অনুষ্ঠিত দর্শনায় ভাত খাওয়ার সময় গলায় আটকে প্রাণ গেল বৃদ্ধের শাহরুখের জন্মদিন ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছাবে পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
কুলাউড়ায় বইপড়ার আলো ছড়াচ্ছে ‘আদর্শ পাঠাগার’, নেপথ্যে শিক্ষক-সাংবাদিক খালিক উদ্দিন
প্রকাশিত : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

সামসু‎ উদ্দিন বাবু, কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ

একটি ছোট্ট ঘর, কিছু বই আর সমাজ পরিবর্তনের অদম্য স্বপ্ন—এই পুঁজি নিয়েই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শহরে বইপড়ার আন্দোলন গড়ে তুলেছেন শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিক মো. খালিক উদ্দিন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘আদর্শ পাঠাগার’ এখন বইপড়ার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের এক অনন্য উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিক শিক্ষা সহায়তা সংগঠন ‘আহমদ জে. সোহান ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগিতায় কুলাউড়া শহরে যাত্রা শুরু করে আদর্শ পাঠাগার। তরুণ প্রজন্ম যখন ক্রমেই মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় ব্যয় করছে, তখন বইয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং নতুন পাঠক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে উদ্যোগটি শুরু করেন খালিক উদ্দিন।

শুরুর দিকে সীমিতসংখ্যক বই, ছোট্ট পরিসর ও আর্থিক সংকট ছিল তাঁর প্রধান বাধা। অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে মানুষ আদৌ বই পড়তে আগ্রহী হবে কি না। তবে মানুষের মধ্যে জ্ঞানার্জনের আগ্রহ জাগিয়ে তোলার বিশ্বাস থেকেই তিনি এগিয়ে যান। শিক্ষকতার পাশাপাশি স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের বই পড়তে উৎসাহিত করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝানো এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পাঠাগারটির সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন নতুন নতুন পাঠক।

প্রায় ২ হাজার ৭০০ পাঠককে বই পড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা

আদর্শ পাঠাগারকে শুধু বই ধার দেওয়া ও পড়ার জায়গা হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি এর প্রতিষ্ঠাতা। বই পড়াকে আনন্দময় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে আয়োজন করেছেন ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব’। এ আয়োজনে মা-মেয়ে, বাবা-ছেলে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে আটটি বিশেষ ইভেন্টের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৭০০ পাঠককে বই পড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন খালিক উদ্দিন। পাঠকদের উৎসাহিত করতে দেওয়া হয়েছে নগদ অর্থ, বৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ। তাঁর উদ্দেশ্য, একটি বই পড়ার অভিজ্ঞতা যেন পাঠককে আরও বই পড়তে অনুপ্রাণিত করে। বই পড়ার পাশাপাশি বই উপহার দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার কপি বই বিনামূল্যে বিভিন্ন মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, একটি বই মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ করতেও উদ্যোগ

মো. খালিক উদ্দিন কুলাউড়ার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। নিজ কলেজের গ্রন্থাগারে বই দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগারেও নিজ উদ্যোগে বই প্রদান করেছেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগারমুখী করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
বর্তমানে আদর্শ পাঠাগারের দুটি শাখা রয়েছে। দুই শাখা মিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮০০। তবে পাঠকের চাহিদার তুলনায় বইয়ের এই সংগ্রহ অপ্রতুল। প্রতিদিন নতুন পাঠক আসছেন, খুঁজছেন পছন্দের বই। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী নতুন বই সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আর্থিক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সম্প্রসারণ

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা খালিক উদ্দিন বলেন, “এই পাঠাগারের নিজস্ব কোনো আয় নেই। সরকারি-বেসরকারি কোনো নিয়মিত সহযোগিতাও নেই। নিজের সামর্থ্য ও কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর সহযোগিতা নিয়ে যতটুকু পারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারি-বেসরকারি যেকোনো উৎস থেকে সহযোগিতা পাওয়া গেলে বইপড়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা সম্ভব হতো। এতে আরও অনেক নতুন পাঠক তৈরি হতেন।”

সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের পাঠাগারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি পেশায় একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের কখনো শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইনি। আমি এমন একটি ঘর তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে বই থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ আবার বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। এই সম্পর্কের মধ্য দিয়ে একজন পাঠক মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি সুনাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠবে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের সামর্থ্য ও সুযোগ থাকলে আদর্শ পাঠাগারের এই অগ্রযাত্রার সঙ্গী হোন। নিজ নিজ এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করুন। এতে সমাজ আলোকিত হবে, মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

সাংবাদিকতা ও লেখালেখিতেও সক্রিয়

শিক্ষকতার পাশাপাশি মো. খালিক উদ্দিন দৈনিক আগামীর সময় ও দৈনিক যুগভেরীর কুলাউড়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ‘দর্পণ’ নামে ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সাহিত্যবিষয়ক একটি সংকলন সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
লেখালেখির জগতেও রয়েছে তাঁর পদচারণা। ‘অনুভব’ ও ‘প্রেরণার গল্প’ নামে তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষা শিক্ষাবিষয়ক তাঁর একটি বইয়ের নাম The Art of English Language।

তবে শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও লেখালেখির নানা পরিচয়ের বাইরে খালিক উদ্দিনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—বইয়ের আলো মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আদর্শ পাঠাগার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেরই একটি প্রয়াস। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও নিরলস প্রচেষ্টা থাকলে ছোট্ট একটি উদ্যোগও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ