
বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, মানি চেঞ্জার কার্যক্রম, স্বর্ণ আমদানি ও পরিশোধন খাতের লাইসেন্স এবং তদারকিতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচ শ্রেণির নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, নবায়ন, লেনদেনের সীমা ও কার্যক্রম পরিচালনার শর্ত একত্র করে সমন্বিত সার্কুলার প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো প্রযোজ্য ভ্রমণসুবিধার বিপরীতে একজন যাত্রীকে প্রতি যাত্রায় সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার নোট ও কয়েন সরবরাহ করতে পারবে। নির্দিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব থেকে নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও একই সীমা প্রযোজ্য হবে। নগদে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ভ্রমণসুবিধা অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময়ব্যবস্থা কিংবা আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া যাবে।
পূর্ণাঙ্গ মানি চেঞ্জারগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণসুবিধার বিপরীতে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ তিন হাজার ডলার বিক্রি করতে পারবে। পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির তথ্য এন্ডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নেওয়া যাবে। এ ফি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় পূর্ণাঙ্গ মানি চেঞ্জারের বৈদেশিক মুদ্রার দৈনিক সমাপনী নগদ স্থিতির সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এডি ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবের স্থিতি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার এবং নগদ বাংলাদেশি টাকার স্থিতি ৫০ লাখ টাকা রাখা যাবে। এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ হবে এক বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
অন্যদিকে, অনুমোদিত স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা লাইসেন্সের আওতায় স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকার আমদানি করতে পারবেন। তবে লাইসেন্স থাকলেই আমদানির অনুমতি মিলবে না। প্রতিটি চালানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক পূর্বানুমোদন নিতে হবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সের মেয়াদ হবে দুই বছর এবং নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ টাকা।
স্বর্ণ আকরিক ও ডোরে আমদানি করে পরিশোধনের অনুমতি পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট আর্থিক সক্ষমতা, নিরাপদ সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। এ অনুমতির মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
সার্কুলারে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ, মাসিক প্রতিবেদন দাখিল এবং অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধান মানার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং লাইসেন্স বা অনুমতি বাতিলের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের লক্ষ্য বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সমন্বিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে জবাবদিহি ও তদারকি জোরদার করা।

