
ফ্রান্সের অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জনঅসন্তোষের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপজুড়ে। আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের চাপে দেশটির অর্থনীতি যখন চ্যালেঞ্জের মুখে তখন একই ধরনের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরেও। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা সরকারি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো বিশাল বাজেট ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ এবং বার্ষিক বাজেট ঘাটতি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় সরকারের অন্যান্য খাতে ব্যয়ের সক্ষমতাও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়ে গেলে শিক্ষা স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ বরাদ্দের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনই ফ্রান্সের মতো পরিস্থিতিতে পড়ছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারের অবস্থান এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ দেশটির অর্থনীতিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে এই সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে সমঝোতা না হলে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। ঋণসীমা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ দেখা দিলে সরকারি অর্থ পরিশোধ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণখেলাপির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং রাজনৈতিক বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান দেশটিকে সাময়িক সুরক্ষা দিলেও অনিয়ন্ত্রিত ঋণ ও বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

