
তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাজেকে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকবাসীর নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং জেএসএসের সদস্যদের কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক সড়কে অবরোধ শুরু হয়। পরে বাঘাইহাট সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মো. সালমান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং বাঘাইহাট ও মাচলং বাজারের পূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি অভিযোগ করেছে, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সদস্যরা এখনো সাজেকের মাচলং এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, শতাধিক সাধারণ মানুষকে হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামবাসীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং ভয়ে জুমচাষিদের কাজে যেতে না পারার অভিযোগও করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংগঠন দুটি। তাদের অভিযোগ, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না; বরং প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেকে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। কটেজ ও রিসোর্টগুলোর সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বুধবার তিন হাজারের বেশি পর্যটক সাজেক ভ্রমণ করেছেন বলে জানা গেছে।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি রিন্টু চাকমা জানান, সাজেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এসেছেন এবং কোনো কটেজ বা রিসোর্টে কক্ষ খালি নেই। তবে সংগঠন দুটির অনুরোধের পর পর্যটকেরা বুধবারের মধ্যে এলাকা ছেড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবরোধ শুরু হলে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

