
নানা শঙ্কা কাটিয়ে দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। সৈকতের পাশাপাশি শহরের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজগুলোতেও বেড়েছে অতিথির চাপ। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আশা, টানা ১০ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এতে পর্যটন খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পর্যটকদের আগমন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে হোটেলমালিকদের দাবি, গত কয়েক দিনে সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। পর্যটকেরাও আবার ভিড় করছেন সৈকতে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানিয়েছেন, তারকা মানের ২০টির বেশি হোটেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। মাঝারি মানের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষও বুকিং রয়েছে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে বিজয়া দশমী উপলক্ষে ২১ অক্টোবর কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বিসর্জন উৎসব দেখতে আড়াই থেকে তিন লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। এ উৎসবকে ঘিরেও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুর বলেন, ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং প্রতিমা বিসর্জন উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ ও সেবা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিজয়া দশমীতে সৈকতে প্রায় ৪০০ প্রতিমা বিসর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটনের ব্যস্ততা বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, নিরাপদ পরিবেশ ও উৎসবের আমেজ ধরে রাখা গেলে এবারের ছুটি পর্যটন খাতের জন্য বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আসবে।

