মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রীমঙ্গলের প্রবাসী যুবকের মৃ”ত্যু আলমডাঙ্গায় আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গায় পাঁচটি রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর দাবি ভারতের উত্তরাখন্ডের জোশীমঠের কাছে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে ৬ জনেরই মৃত্যু  কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫০.৫৫ শতাংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাপ্তাহিক ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ অনুষ্ঠিত দর্শনায় ভাত খাওয়ার সময় গলায় আটকে প্রাণ গেল বৃদ্ধের শাহরুখের জন্মদিন ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছাবে পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযোগের পর যুবলীগ নেতা কনক আটক
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ন

দীল আফরোজা, গাজীপুর

গাজীপুর মহানগরীর লক্ষ্মীপুরা এলাকার ২৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মিনহাজুল আবেদিন কনককে আটক করেছে র‍্যাব-১ ও গাজীপুর সদর থানা পুলিশ। গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর নিজ বাড়িতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। কনক স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব মামলার সংখ্যা, বর্তমান অবস্থা এবং আটকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদক ব্যবসা, হুমকি ও হামলার অভিযোগ এলাকাবাসীর

কনককে আটকের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন লক্ষ্মীপুরা এলাকার কথিত মাদক ব্যবসা, মাদকবিরোধী প্রতিবাদকারীদের হুমকি এবং হামলার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) বিভিন্ন দপ্তরে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর আবেদনে বলা হয়েছে, গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়ে আসছে বলে তাঁদের অভিযোগ। বিশেষ করে সাহেল ও কনককে কেন্দ্র করে একটি কথিত মাদক বিক্রির স্পট পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। বিষয়টি একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও ওই স্পটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলা, প্রতিবাদ করা কিংবা পুলিশকে তথ্য দেওয়ার কারণে কয়েকজনকে হুমকি, ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় জড়ানোর আশঙ্কার কথাও তাঁরা তুলে ধরেছেন।

বাড়িতে হামলা ও মারধরের অভিযোগ

এলাকাবাসীর আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সাহেল, কনক, ফারুক, হারুন, শুভ, সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল কয়েকজনকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে। তাঁদের বাড়ির কাউন্টার নামে পরিচিত চারটি ঘর নিয়ে কথা বলার জেরে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে লক্ষ্মীপুরা এলাকায় একটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় দুজন আহত হন। পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে একই এলাকার আরেকটি বাড়িতে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা, গর্ভবতী নারীদের মারধর ও বাড়িঘরে লুটপাটের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন আবেদনকারীরা। তবে তাঁদের অভিযোগ, কার্যকর পদক্ষেপের পরিবর্তে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এলাকায় ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

আবেদনে সংযুক্ত নথির বরাত দিয়ে সাতজনের নামে মোট ৫৫টি মামলা বা আইনি রেকর্ডের তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মো. হারুন অর রশিদের নামে ১৬টি, মেহেদী হাসান কনকের নামে পাঁচটি, মোছা. আশা আক্তারের নামে চারটি, মো. সাহেল হোসেনের নামে দুটি, মো. শুভ মিয়ার নামে সাতটি, মো. সুমনের নামে ১৩টি এবং মো. ফারুক হোসেনের নামে আটটি মামলা বা আইনি রেকর্ডের তথ্য রয়েছে।

তবে এসব রেকর্ডের প্রকৃতি, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সরকারি নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শক, গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স), গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাজীপুর কার্যালয় এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আবেদনে কথিত মাদক বিক্রির স্থান সরেজমিনে তদন্ত, আগে দেওয়া অভিযোগগুলো যাচাই, হামলা ও হুমকির ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আইনি রেকর্ডের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও তাঁদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুরা এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে এলাকাবাসীর এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী তথ্য জানা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ