সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রীমঙ্গলের প্রবাসী যুবকের মৃ”ত্যু আলমডাঙ্গায় আইইএস জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গায় পাঁচটি রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর দাবি ভারতের উত্তরাখন্ডের জোশীমঠের কাছে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে ৬ জনেরই মৃত্যু  কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫০.৫৫ শতাংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাপ্তাহিক ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ অনুষ্ঠিত দর্শনায় ভাত খাওয়ার সময় গলায় আটকে প্রাণ গেল বৃদ্ধের শাহরুখের জন্মদিন ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছাবে পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দোস্তগ্রামের আব্দুস সাত্তারের মর্মান্তিক মৃত্যু
প্রকাশিত : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ন

আলী আকবর, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা:

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানা এলাকার দোস্তগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মৃত হক মিয়ার ছেলে আব্দুস সাত্তার ।মাগুরায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ব্যবসার কাজে গরু কিনতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বিশেষ করে স্ত্রী ও দুই নাবালক কন্যাসন্তানকে রেখে তাঁর এভাবে চলে যাওয়া পুরো পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও গভীর বেদনার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার ব্যবসার উদ্দেশ্যে গরু কেনার জন্য কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীর সঙ্গে গাড়িতে করে মাগুরা জেলার রামনগর এলাকার একটি হাটের উদ্দেশে রওনা হন আব্দুস সাত্তার। পথে মাগুরার আলমখালী বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। এতে গাড়িতে থাকা অন্যরা কমবেশি আহত হলেও চালক আব্দুস সাত্তার গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও বেঁচে থাকার অবলম্বন থেমে যায়। যে মানুষটি জীবিকার তাগিদে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যবসার কাজে বের হয়েছিলেন, সেই মানুষটিই আর জীবিত অবস্থায় ঘরে ফিরতে পারলেন না। তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে শোকের পরিবেশ।

স্ত্রী ও দুই নাবালক কন্যাকে রেখে গেলেন না ফেরার দেশে

মৃত্যুকালে আব্দুস সাত্তার স্ত্রী, দুই নাবালক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অবুঝ দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে শোকাহত স্বজন ও এলাকাবাসীর হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে।

যদিও রিজিকের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা, তবুও সন্তানদের বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে স্বজনদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে বাবার স্নেহ, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতায় সন্তানদের জীবন গড়ে ওঠার কথা, সেই বাবার আকস্মিক মৃত্যু তাদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। বাবাকে হারানোর এই বেদনা ও বাস্তবতার কঠিন বোঝা তাদের পরিবারকে দীর্ঘদিন বহন করতে হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারটির পাশে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা দাঁড়াবেন। বিশেষ করে দুই নাবালক কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ যেন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবার মানবিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হাস্যোজ্জ্বল ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন আব্দুস সাত্তার

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুস সাত্তার ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র স্বভাবের একজন মানুষ। তাঁর আন্তরিক ব্যবহার, সুন্দর আচরণ ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি তাঁকে পরিচিতজনদের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মেশা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে অনেকেই গভীরভাবে মর্মাহত। যাঁদের সঙ্গে তাঁর প্রতিদিনের দেখা-সাক্ষাৎ, কথাবার্তা ও আন্তরিক সম্পর্ক ছিল, তাঁরা কিছুতেই তাঁর এই অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না। পরিচিতজনদের কাছে তাঁর স্মৃতি এখন বেদনা ও ভালোবাসায় মিশে আছে।

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল একটি প্রাণ, নিভিয়ে দিল একটি পরিবারের স্বপ্নের আলো। রেখে গেল শোকাহত স্ত্রী, অসহায় দুই শিশুকন্যা এবং অসংখ্য মানুষের চোখের জল। আব্দুস সাত্তারের এই অকাল মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, সড়কে সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা মুহূর্তেই একটি পরিবারের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা

আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি প্রার্থনা করেছেন।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন মরহুম আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমা করে দেন, তাঁর জীবনের সব ভুলত্রুটি মার্জনা করেন, তাঁর কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও দুই নাবালক কন্যাসন্তানসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সবাইকে এই গভীর শোক সহ্য করার শক্তি, ধৈর্য ও মানসিক প্রশান্তি দান করেন। মহান আল্লাহ যেন এতিম শিশু দুটির ভবিষ্যৎ সুন্দর ও নিরাপদ করেন এবং তাদের জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দেন।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ