
পোশাক শ্রমিকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম মজুরি ২৬০ ডলার বা প্রায় ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়নের বাংলাদেশ কাউন্সিল—আইবিসি। বর্তমানে পোশাক খাতে প্রবেশনারি পর্যায়ের একজন শ্রমিকের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে বর্তমান মজুরির তুলনায় তা আড়াই গুণেরও বেশি হবে।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আইবিসির কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এ মজুরি দাবি নির্ধারণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ। রপ্তানি পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমিকদের জীবনধারণের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মজুরির এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা খরচ বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। আইবিসির নেতাদের মতে, এসব কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বর্তমান মজুরিতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টিও সভায় আলোচনায় আসে। সংগঠনটির মতে, এর ফলে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং পোশাক শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের সংকট আরও বেড়েছে।
আইবিসি জানিয়েছে, আপাতত পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৬০ ডলার নির্ধারণের দাবি চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই অন্যান্য গ্রেডের মজুরির পরিমাণও নির্ধারণ করা হবে। সরকার নতুন করে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করলে লিখিত প্রস্তাব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধির কাছে জমা দেওয়া হবে।
আইবিসির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সে হিসাবে আগামী নভেম্বরে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার কথা থাকলেও এখনো নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী মজুরি বোর্ড গঠনের ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার কথা। এ বিষয়ে গত ৪ আগস্ট শ্রমমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে আইবিসি। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

