চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ২ লাখ ২ হাজার গবাদিপশু
- আপডেট সময় : ১২:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গাজুড়ে এখন জমে উঠেছে কোরবানির পশু প্রস্তুতির ব্যস্ততা। জেলার চারটি উপজলার ছোট-বড় খামারে চলছে গরু, ছাগল ও ভেড়ার শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খামারিরা পশুর খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে একদিকে পশুর বিপুল সরবরাহ, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক খামারি।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/13/কাঙ্ক্ষিত-দাম-নেই-ধানে-অস/
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯৬টি গরু, ১১৬টি মহিষ, ১ লাখ ৫৫ হাজার ২০০টি ছাগল এবং প্রায় আড়াই হাজার ভেড়া। বিপরীতে জেলার সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১টি পশু। সেই হিসেবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৭১ হাজার ৬৬টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, জেলার নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। স্থানীয় খামারিরা দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের বিভিন্ন জাতের পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব পশুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/12/ফেনীতে-বাসচাপায়-প্রাণ-গ/
চুয়াডাঙ্গার খামারগুলোতে এবার শাহীওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর পাশাপাশি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। জেলার ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।
আলমডাঙ্গা উপজেলার এক খামারি শাহীন জানান, প্রতি বছরই তারা ১৫০ থেকে ২০০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা তাদের খামারে এসে গরু পছন্দ করে নিয়ে যান। তিনি বলেন, “গরুগুলো সুস্থ ও দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। কিন্তু এবার অনেক ক্রেতাই খুব কম দাম বলছেন। আমাদের লালন-পালন ও খাবারের খরচের তুলনায় সেই দাম সন্তোষজনক নয়।”
খামারে কর্মরত শামসুল আলম বলেন, “এবার তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পশুর বাড়তি যত্ন নিতে হয়েছে। সারাক্ষণ ফ্যান চালানো, পানি ছিটানো ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এতে খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি শ্রমও বেশি দিতে হয়েছে।” খামারিদের অভিযোগ, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল এবং শ্রমিক খরচ বাড়ায় পশু পালন এখন আগের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বড় আকারের গরু লালন-পালনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/05/13/চুয়াডাঙ্গায়-শেষ-হলো-প্/
এদিকে, কোরবানির পশু প্রস্তুতের পুরো সময়জুড়ে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও জ্বালানি সংকটজনিত লোডশেডিং খামারিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত গরমে পশু সুস্থ রাখতে ফ্যান চালানো, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ও বাড়তি পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. শামীমুজ্জামান বলেন, “জেলাজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে আটটি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হবে। আমাদের টিম প্রত্যেক হাটে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, নিরাপদ কেনাবেচা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এবারের মৌসুমে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পশু বাণিজ্যের আশা করছি।”
খামারিরা আশা করছেন, ঈদের বাজারে যদি পশুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়, তাহলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে খামার সম্প্রসারণে তারা উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠবে আরও কর্মসংস্থান এবং সমৃদ্ধ হবে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত।





















