চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস: শোভাযাত্রা, আলোচনা ও সচেতনতার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে
‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সব প্রাণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দিনটি ঘিরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল চত্বর ঘুরে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন আর সচেতনতামূলক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/07/শার্শায়-পিআইও-শাহারিয়া/
শোভাযাত্রা শেষে সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা। সভার শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান। আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে প্রতিবছর ৭ এপ্রিল দিনটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসার ঘটেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা আরও কার্যকর ও সহজলভ্য হয়ে উঠছে। সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকার এ সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি নিরাপদ পানি, পুষ্টিকর খাদ্য এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন, https://www.dailyamaderpatrika.com/2026/04/07/নীলফামারী-প্রেসক্লাব-নির/
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রিফাত আরা বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে—বিশেষ করে বাজেট ও জনবলের ঘাটতি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র ০.৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন, যা স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জকে স্পষ্ট করে। তবে ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ালে অনেক রোগ প্রতিরোধ সম্ভব বলেও তিনি মত দেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামীমা ইয়াসমিন, নার্সিং সুপারভাইজার রেহানা পারভীন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নার্সবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের এই আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলার এক কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারই পারে একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে।






















