নার্সদের মূল্যায়ন: সময়ের দাবি
- আপডেট সময় : ০৩:১৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ৪৯০ বার পড়া হয়েছে
স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েও দেশের নার্সরা এখনও নানা সীমাবদ্ধতা ও অবমূল্যায়নের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসাব্যবস্থার সামনের সারিতে থেকে রোগীর সেবা নিশ্চিত করলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা পান না প্রাপ্য সম্মান,নিরাপদ কর্মপরিবেশ কিংবা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। আন্তর্জাতিক নার্সেস ডে সামনে এলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
প্রতি বছর ১২ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নার্সেস ডে পালিত হয়। আধুনিক নার্সিংয়ের অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন উপলক্ষে দিনটি পালন করা হয়। তবে একজন নার্সের জীবনের বাস্তবতা শুধু একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।এর পেছনে আছে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, মানসিক চাপ, ক্লান্তি আর মানবিক দায়িত্বের গল্প।
হাসপাতালে কাজ করার সময় খুব কাছ থেকে দেখতে হয়েছে হাজারো বাস্তব চিত্র। অনেক সময় দেখা যায়, একজন নার্স একসঙ্গে কয়েকজন গুরুতর রোগীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। কারও অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, কেউ এনেস্থিসিয়া কেটে উঠতেই ব্যথায় ছটফট করছেন, আবার কোনো রোগীর স্বজন উদ্বিগ্ন হয়ে বারবার প্রশ্ন করছেন। এই সবকিছুর মাঝেও শান্ত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
রাতের ডিউটি হয়তো বাইরে থেকে শুধু ুএকটা শিফট” মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে সেটি অনেক বড় মানসিক পরীক্ষা। যখন পুরো শহর ঘুমিয়ে থাকে, তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডে একজন নার্স হিসেবে নিরবে হেঁটে বেড়াতে হয় রোগীর বেড থেকে বেডে। কারও জ্বর মাপতে, কারও স্যালাইন ঠিক করতে, আবার কারও অপারেশন,কাউকে দিতে হয় ঈচজ। কখনো রোগীর স্বজনের কান্না শুনতে হয়, কখনো মৃত্যুর সংবাদও সামলাতে হয় পেশাদারিত্বের সঙ্গে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডড়ৎষফ ঐবধষঃয ঙৎমধহরুধঃরড়হ (ডঐঙ)-এর তথ্যমতে, রোগীর সার্বক্ষণিক পরিচর্যার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পালন করেন একজন নার্স।রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার প্রথম লক্ষণ একজন নার্সই সবার আগে বুঝতে পারেন। তাই চিকিৎসাব্যবস্থার সফলতার পেছনে নার্সদের ভূমিকা মানবদেহের হৃদস্পন্দনের মতো।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় দেখেছেন, যখন মানুষ ভয় আর অনিশ্চয়তায় ঘরে বন্দি ছিল, তখনও নার্সরা হাসপাতালের ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। চচঊ পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করা, পরিবার থেকে দূরে থাকা, সংক্রমণের ভয় নিয়েও রোগীর পাশে দাঁড়ানো—চ্যালেজিং হলেও বারবার জয় করেছে নার্সরা।
একই ভাবে হাম এখন ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। আমার পেশাদারীত্বের তাড়নায় আমি ছুড়ছি।
হসপিটাল ওয়ার্ল্ডে যথেষ্ট প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট না থাকলেও কাজ করে যেতে হয় একজন নার্সকে নিঃসংকোচে।
থামুন না!
পেশাদারিত্বের পাশাপাশি নার্সের জীবনের মূল্য কি!
তবু সমাজে এখনও অনেক সময় নার্সদের কাজকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অনেকেই মনে করেন নার্সদের কাজ শুধু চিকিৎসকের নির্দেশ পালন করা। অথচ বাস্তবে একজন নার্সকে একইসঙ্গে দক্ষ, ধৈর্যশীল, মানবিক এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে হয়।
কারণ হাসপাতালের প্রতিটি মুহূর্তই হতে পারে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।
নার্সদের মূল্যায়ন মানে শুধু একটি দিবসে ফুল দেওয়া নয়।বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতেও নির্ধারিত বেতন স্কেল নিশ্চিত করা উচিত সরকারের,নিরাপদ কর্মপরিবেশ,ঝুঁকি ভাতা, পর্যাপ্ত জনবল, মানসিক স্বস্তি, পেশাগত মর্যাদা এবং সমাজের সম্মান নিশ্চিত করাও জরুরি।কারণ একজন রোগীর সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তে যে মানুষটি নীরবে পাশে দাঁড়ান, তিনি একজন নার্স।
হাসপাতালের করিডোরে প্রতিদিন যে নীরব যুদ্ধ চলে, তার অন্যতম সৈনিক এই নার্সরাই। তারা হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন না, কিন্তু অসংখ্য মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে তাদের অবদান চিরদিনই অস্বীকার করে যাবে জাতি!
পরিশেষে বলতে চাই— নার্সদের সত্ত্বা বিলোপ যেতে দিয়েন না। বিশ্বের প্রতিটি দেশের বুকে ছড়িয়ে যেতে দিন নার্সদেরকে। আন্তর্জাতিক ব্রান্ডিং হৌক বাংলাদেশী নার্সদের। রেমিটেন্সের বড় অংশ হতে পারে নার্সিং। বাংলাদেশে এখনো নার্স সংকট রয়েছে। যথাযথ মূল্যায়ন ভবিষ্যতে নার্সিং পেশায় আসতে নবীনদের কে উদ্ভুদ্ধ করবে।
তাজবিনা মাতবর তিলকা
ইন্টার্ন নার্স
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল(চমেকহা)
























