শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনামঃ
৮৩ বছর বয়সে শুটিংয়ে দুর্ঘটনার শিকার অমিতাভ বচ্চন শাহজাদপুর মহাশ্মশানে হোমযজ্ঞের মধ্য দিয়ে দত্তক গ্রহণ কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের ফাঁদে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ দর্শনায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত সলঙ্গায় আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন এমপি মিষ্টি মিষ্টির পদত্যাগের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা ও পুনর্নির্মাণের দাবি শফিকুর রহমানের কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোর তৈল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন, মৃত ১ সিরাতুন নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অতিরিক্ত টাকা দাবি ও ইন্টার্নি সনদ না পাওয়ার অভিযোগ মাগুরার আয়ুর্বেদিক কলেজে
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে *** দৈনিক আমাদের পত্রিকায় : সারাদেশে জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি মালিটমিডিয়া ও প্রিন্ট এর জন্য নিয়োগ চলছে ***
নির্বাচনি প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয় : হাইকোর্টের রুল
/ ২৭ বার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে ডোপ টেস্ট করানোর বিধান কেন প্রণয়ন করা হবে না এবং ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে কিংবা ডোপ টেস্ট করাতে কোনো প্রার্থী অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান কেন করা হবে নাÑ তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ সব নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন দাখিলের বিধান প্রণয়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন।

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে যারা প্রার্থী হবেন তাদের ডোপ টেস্ট না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেছিলেন।

এদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. শিহাব উদ্দিন খান। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী অনি নিজে।

শুনানি ও আদেশের পর রিটকারী আইনজীবী জানান, বর্তমান নির্বাচনি আইন ও বিধিমালায় প্রার্থীদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ সরকারি চাকরিজীবী বা পুলিশ সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক।

প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন এ বিষয়ে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মাদক গ্রহণের বিষয়টি জনস্বার্থ, জনপ্রতিনিধিত্বের মান এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ কারণে প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষায় মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়নের বিষয়টিও রিটে তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ধূমপান ও মাদকবিরোধী ফাউন্ডেশন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামার সঙ্গে ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংযুক্ত করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিল। সংগঠনটি মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করারও দাবি জানায়। রিটে বলা হয়েছে-

১. জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের সব নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্টের বিধান কেন প্রণয়ন করা হবে না।

২. মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে ডোপ টেস্টের সনদ জমা দেওয়ার বিধান কেন করা হবে না।

৩. ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল বা তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান কেন করা হবে না।

৪. নির্ধারিত সময়ে ডোপ টেস্ট করাতে কোনো প্রার্থী অস্বীকৃতি জানালে বা পরীক্ষায় অংশ না নিলে তার প্রার্থিতা বাতিলের বিধান কেন করা হবে না।

৫. ডোপ টেস্টের ফল নিয়ে কোনো প্রার্থী আপত্তি করলে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ কেন রাখা হবে না।

৬. পরীক্ষার নমুনা সংরক্ষণ, অনুমোদিত পরীক্ষাগার, ফলাফল যাচাই এবং আপিলের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান কেন করা হবে না।

তবে প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট চালুর ক্ষেত্রে শুধু মাদকবিরোধী নীতি বিবেচনা করলেই হবে না; সংবিধান ও প্রচলিত নির্বাচনি আইনের সঙ্গে এর সামঞ্জস্যও নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে একজন প্রার্থীর ডোপ টেস্টে ‘পজিটিভ’ ফল এলেই সরাসরি তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে কি না, নাকি প্রথমে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা ও অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিতকরণের সুযোগ থাকবেÑএটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

একইভাবে কোনো বৈধ ওষুধ সেবনের কারণে পরীক্ষায় নিষিদ্ধ কোনো উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেলে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ, পরীক্ষার ফলের বিরুদ্ধে আপিল এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা-তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও সুস্পষ্ট বিধান প্রয়োজন।

জনস্বার্থে বিষয়টির গুরুত্ব

রিটকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা জনগণের ভোটে রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাই প্রার্থীদের মাদক গ্রহণের বিষয়টি নির্বাচনি স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অন্যদিকে, এমন বিধান কার্যকর হলে তা যেন নির্ভুল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ভিত্তিতে হয় এবং কোনো প্রার্থীকে ভুল বা অসম্পূর্ণ পরীক্ষার ফলের কারণে নির্বাচনি অধিকার থেকে বঞ্চিত না করা হয়Ñসেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আইনজীবী বলেন, আমরা নাগরিকরা নিয়মিত কর (ট্যাক্স) প্রদান করি। আমাদের প্রতিনিধিত্ব যারা করবেনÑতা সংসদ সদস্য হোক কিংবা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিÑতাদের অবশ্যই মাদকমুক্ত ও সুস্থ মানসিকতার (সাউন্ড মাইন্ড) হতে হবে। মাদকাসক্ত কোনো ব্যক্তি জনগণের সঠিক অধিকার আদায় বা প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সরকারি স্বীকৃত ল্যাবরেটরি বা হাসপাতাল থেকে ডোপ টেস্টের সনদ জমা দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। যদি কোনো প্রার্থী মাদকাসক্ত না হন, তবে ডোপ টেস্টে অংশ নিতে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগার কোনো কারণ নেই, বরং তিনি গর্বের সঙ্গেই তা করবেন।

আদালতের জারি করা রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মোট ৭ জন বিবাদীকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও সংবাদ
আমাদের পেজ